হামজাকে জাতীয় দলের অধিনায়ক ও দলে মনোবিদ রাখা হোক: সাবেক অধিনায়ক আমিনুল

বাংলাদেশ ফুটবল দলের বর্তমান অধিনায়ক জামাল ভূইয়া প্রায় সময় মাঠে উপস্থিত থাকেন না। সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক মনে করেন, ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টার সিটির মতো ক্লাবে অধিনায়কত্ব করা হামজা দেওয়ান চৌধুরি যদি জাতীয় দলের অধিনায়ক হন, তবে দল মাঠে আরও দৃঢ় ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠবে। তিনি আরও যোগ করেন, দলের মানসিক ও কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য মনোবিদ নিয়োগও প্রয়োজন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) দাবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক ফুটবলের সাম্প্রতিক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেছেন।
বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূইয়া একাদশে থাকেন না ফলে কোনো ম্যাচে তপু, কখনো সোহেল রানা আর্মব্যান্ড পড়েন। খেলার মাঝ পর্যায়ে তাদের উঠিয়ে নিলে আবার অন্য জনের হাতে আর্মব্যান্ড উঠে। অধিনায়কত্ব নিয়ে যে দোলাচল সেটা হামজার হাতে উঠলে আর কোনো সংশয় থাকবে না বলে মত আমিনুলের, 'আমাদের যে বর্তমানে একেক জন একেক সময় দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। এটা নিয়ে কনফিউশন বা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে, এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। হামজা অধিনায়ক হলে কেউ দ্বিমত হবে না এবং আরো উৎসাহিত হবে। ফেডারেশন, টিম ম্যানেজম্যান্ট কিংবা ভবিষ্যতে হামজাকে অধিনায়কত্ব দায়িত্ব দিলে বাংলাদেশের ফুটবলে ইতিবাচক দিক উন্মোচন হবে।'
বয়স ভিত্তিক কিংবা জাতীয় দল শেষ মুহুর্তে গোল হজম করে ম্যাচ হারা বা জয় বঞ্চিত হওয়া বাংলাদেশের ফুটবলে স্বাভাবিক চিত্র। হংকংয়ের বিপক্ষে শেষ কয়েক সেকেন্ড আগে গোল হজম করায় ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ভঙ্গ হয়েছে। হংকংয়ের চার গোলই বাংলাদেশের ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের ভুলে হয়েছে। এ নিয়ে সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকের পরামর্শ, 'প্রতি জাতীয় দলে মনোবিদ থাকা প্রয়োজন। ম্যাচে যেন মানসিকভাবে চাপ নেয়া না হয় এজন্য খেলোয়াড়দের মানসিক পরিবর্তন একজন মনোবিদ করতে পারেন। স্টেডিয়ামে অনেক দর্শক-সমর্থক থাকলেও খেলোয়াড়রা স্নায়ুচাপে ভুগবেন না। আমি খেলোয়াড়ী জীবনে মনোবিদের পরামর্শ নিয়েছি অনেকবার।'
তিন বছরের বেশি সময় স্পেনিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা বাংলাদেশ ফুটবল দলের হেড কোচ। হামজা-সামিতের মতো উচু মানের ফুটবলার আসার পরও সিঙ্গাপুর ও হংকং ম্যাচে বাংলাদেশ কোনো পয়েন্ট পায়নি। এজন্য ফুটবলসংশ্লিষ্টরা ক্যাবরেরাকে এককভাবে দায়ী করে পদত্যাগ দাবি করছেন। এ বিষয়ে সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক আমিনুল হকের অবশ্য ভিন্ন মত, 'দল হারলে অবশ্যই দায় কোচের উপর বর্তায়। তবে এককভাবে শুধু কোচই দায়ী নয় হারের জন্য, ফুটবলারদের ছোটখাটো ভুলে ম্যাচে হার। এই কোচের সাফল্য ও পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট না হলে ফেডারেশন কোচকে পদত্যাগের জন্য বাধ্য করতে পারে কোচ নিজেই পদত্যাগ করা উচিত যদি সে সাফল্য আনতে না পারে। কোচ বদল করে নতুন কোচ আসলেই যে ফলাফল আসবে এটারও নিশ্চয়তা নেই।'