বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষর, রাজনৈতিক বিরোধ সত্ত্বেও অগ্রগতি

ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষর, রাজনৈতিক বিরোধ সত্ত্বেও অগ্রগতি
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

দীর্ঘ আট মাসের সংলাপ, মতবিনিময় ও আলোচনা শেষে অবশেষে ঐতিহাসিক জুলাই সনদে সইয়ের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর সই হবে এই সনদে, যা দেশের রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঐকমত্য কমিশনের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে কমিশনের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ আলোচনা ও প্রস্তাব বিনিময়ের পর বেশ কয়েকটি মূল বিষয়ে আপসচিত্রে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

তবে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংলাপ দীর্ঘায়িত হলেও এটি ব্যর্থ নয়—বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এমন সময় নেওয়া স্বাভাবিক। সরকারের এক সদস্য বলেন, “এটি শুধু একটি দলিল নয়, বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি।”

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে গণভোট বা জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের প্রস্তাব নতুন করে প্রশাসনিক জটিলতা ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সনদ বাস্তবায়নে ধৈর্য ও স্পষ্ট রূপরেখা জরুরি।

সবশেষে, জুলাই সনদে সইয়ের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে আশা করছেন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারে ৮ মাস ধরে চলে জাতীয় ঐকমত্যের কমিশনের সংলাপ। কিন্তু যে রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজি করাতে এতো দীর্ঘ আলোচনা, শেষ দিনেও একমতে পৌঁছতে পারেনি তারা। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে সম্মত হলেও দিনক্ষণ নিয়ে একমত নয় দলগুলো। জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট চায় বিএনপিসহ কিছু দল। আর জামায়াত ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগেই গণভোটের পক্ষে। 

ব্যাপক আলোচনা ও বিশেষজ্ঞ মতামত নেয়ার পরও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে না পারা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া নানা মহলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, জুলাই সনদ ব্যর্থ তখনই হবে, যখন একজনের হাতে ছেড়ে দেয়া হবে। এটা বাস্তবায়নে বিএনপি-জামায়তসহ সব রাজনৈতি দল ও বাংলাদেশ সুশিল সমাজসহ সবাইকে সঙ্গে নিতে হবে।

তবে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলছেন, একই সাথে গণভোট ও নির্বাচনের ব্যবস্থাপনা কতটা পেরে উঠবে নির্বাচন কমিশন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

এদিকে, সংলাপকে ব্যর্থ বলতে রাজি নয় সরকার। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানান, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও দলগুলোর মতামত সমন্বয় করে পরের সপ্তাহেই সুপারিশ দেবে ঐকমত্য কমিশন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জানান, নির্বাচিত বা অনির্বাচিত কোনো সরকার যাতে সৈরশাসক হয়ে উঠতে পারে সেই ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে জতীয় সনদে। 

জুলাই সনদ বাস্তবানের প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কী হতে যাচ্ছে, তা চূড়ান্ত না হলেও আসছে ১৫ অক্টোবর স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। জানানো হয়, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ঐতিহাসিক এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন