ঢাকা ক্লাব সংগঠকরা ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেবেন না

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রাণভোমরা বলা হয় প্রতিযোগী ক্লাবগুলোকে। এই ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণেই দেশের ক্রিকেটের ভিত্তি মজবুত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থিরতা ঘরোয়া ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে।
বিসিবি নির্বাচনে অংশ না নেওয়া একাধিক ক্লাব সংগঠক পূর্বেই অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, তাদের দাবি না মানা হলে ঘরোয়া ক্রিকেট বর্জনের পথে হাঁটবেন।
অবশেষে বুধবার (৮ অক্টোবর) সেই হুমকি বাস্তবে রূপ নিল। বিসিবি নির্বাচন বয়কট করা ক্লাব সংগঠকরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরোয়া ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ক্রিকেট বোর্ডে সংস্কার, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা না আসা পর্যন্ত তারা কোনো ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন না।
সংগঠকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্লাব ক্রিকেটে অব্যবস্থাপনা, পক্ষপাত ও অযোগ্য পরিচালনার কারণে প্রতিযোগিতার মান নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় তারা বোর্ডের সঙ্গে সংলাপের পরিবর্তে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।
এই ঘোষণার ফলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ দেশের বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সমঝোতা না হলে দেশের ক্রিকেট কাঠামো বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।
দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্রোহী ক্লাবগুলোর পক্ষে এই ঘোষণা দেন মোহামেডান ক্লাবের কাউন্সিলর মাসুদুজ্জামান। গত শনিবার ক্লাব নির্বাচন পেছানোসহ ৩টি শর্ত জানিয়েছিলেন সংগঠকরা। একই দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছেও স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল– বিসিবি’র বর্তমান (বিগত) নির্বাহী পর্ষদের সময় বাড়িয়ে নির্বাচনের পুনঃতফসিল, বিকল্প হিসেবে অ্যাডহক কমিটির কাছে দায়িত্ব দেওয়া ও পুনঃনির্ধারিত সময়ে নতুন নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ করা।
তাদের হুমকি সত্ত্বেও গত ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তারই প্রতিক্রিয়া হিসেবে আজ ঢাকার অধিকাংশ ক্লাব কর্তারা জানিয়েছেন, তারা আসন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন না। এ ছাড়া বুলবুলকে অবৈধ সভাপতি বলেও উল্লেখ করেছেন মাসুদুজ্জামান। আপত্তি জানিয়েছেন তাদের বিদ্রোহী ক্লাব সংগঠক বলার কারণে।