বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

বাংলাদেশের মেয়েদের দারুণ পারফরম্যান্স, তবু জয়ের দেখা মিলল না

বাংলাদেশের মেয়েদের দারুণ পারফরম্যান্স, তবু জয়ের দেখা মিলল না
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মাত্র ১৭৮ রানের লক্ষ্য। বড় সংগ্রহ নয়, কিন্তু লড়াইয়ের স্পৃহা ছিলো তীব্র। সেই সীমিত পুঁজিকে আঁকড়ে ধরে গৌহাটিতে নারী বিশ্বকাপে দারুণ লড়াই করল বাংলাদেশের মেয়েরা। নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে দল শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে চাপে রাখে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়া হলো না।

রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতে যায় ইংল্যান্ড, হাতে ছিলো ২৩ বল। বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতেই উইকেট তুলে এনে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান, তবে মাঝপথে ইংলিশ ব্যাটারদের ধৈর্যশীল জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন মারুফা আক্তার, যিনি শুরুর ওভারে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। এছাড়া সালমা খাতুন ও রুমানা আহমেদও বল হাতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ে প্রয়োজনীয় বড় ইনিংসের অভাবেই পুঁজি দাঁড়ায় মাত্র ১৭৮ রান।

শেষ পর্যন্ত জ্যোতিদের সাহসী লড়াই প্রশংসা কুড়ালেও জয় হাতছোঁয়া দূরেই থেকে গেল। তবে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অথচ ১০৩ রানে ইংল্যান্ডের ৬ উইকেট তুলে নিয়েছিলো বাংলাদেশ। এরপর আর ভুল করেনি ইংলিশরা। অভিজ্ঞ হিদার নাইট লোয়ার অর্ডারের চার্লি ডিনকে সঙ্গে নিয়ে জয় তুলে নেন। হিদার ৭৯ আর ডিন ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

বরাবরের মতো ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হেনেছিলেন পেস সেনসেশন মারুফা আক্তার। তার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন এমি জোনস (১)।

ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেটটিও নেন মারুফা। আরেকটি এলবিডব্লিউ। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার টেমি বিউমন্ট (১৩)। ২৯ রানে ২ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

তৃতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়েন হিদার নাইট আর অধিনায়ক নেট স্কাইভার-ব্রান্ট। ১৯তম ওভারে জুটি ভাঙেন ফাহিমা খাতুন। ৪১ বলে ৩২ করা নেটকে বদলি ফিল্ডার ফারজানা হকের ক্যাচ বানান লেগস্পিনার। ওই ওভারেই নতুন ব্যাটার সোফিয়া ডাঙ্কলেকে (০) এলবিডব্লিউ করেন ফাহিমা।

ফাহিমার তৃতীয় শিকার এমা লাম্ব। ডাউন দ্য উইকেটে বড় শট খেলতে গিয়ে মিডঅনে ক্যাচ দেন লাম্ব (১২ বলে ১)। ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

থিতু হয়ে গিয়েছিলেন এলিস কেপসে (২০)। তাকে এলবিডব্লিউ করে বাংলাদেশকে আবারও উচ্ছ্বাসে ভাসান বাঁহাতি স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা।

১০৩ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু অভিজ্ঞ হেদার নাইট সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেননি। ফাহিমা খাতুন ১৬ রানে ৩টি আর মারফা আক্তার ২৮ রানে নেন ২টি উইকেট।

এর আগে বলতে গেলে একাই লড়লেন সোবহানা মোস্তারি। করেন লড়াকু হাফসেঞ্চুরি। শেষদিকে এসে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন রাবেয়া খান। এই দুজনের ব্যাটে চড়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৯.৪ ওভারে ১৭৮ রান তুলে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপ। আগের ম্যাচেই ৬৯ রানে অলআউট করেছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে, জানা ছিলো আগেই। কঠিন পরীক্ষাই দিতে হলো।

গৌহাটিতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শারমিন আক্তারের ব্যাটে ভালো শুরু করেছিল বাংলাদেশ। যদিও আরেক ওপেনার রুবাইয়া হায়দার ৪ রানেই সাজঘরে ফেরত যান। তারপরও ওপেনিং জুটিতে ২৪ রান তোলে বাংলাদেশ।

এরপর নিগার সুলতানাও রুবাইয়ার মতো ব্যর্থতার পরিচয় দেন। রানের খাতা না খুলেই আউট হয়ে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২৫ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে বসে দল।

সেই পরিস্থিতি থেকে সোবহানা মোস্তারিকে নিয়ে হাল ধরার চেষ্টা করেন শারমিন। দেখেশুনে খেলছিলেন, কিন্তু ত্রিশের ঘরে এসে খেই হারিয়ে ফেলেন তিনিও।

৫২ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৩০ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন এই ওপেনার। সেট হয়ে আউট হন স্বর্ণা আক্তারও (১০)। ৮৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফের চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সোবহানা একটা প্রান্ত ধরে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। রিতু মনি তাকে সঙ্গ দিতে গিয়ে অনেক বল খেলেন। কিন্তু দলীয় সংগ্রহ একশ পার হওয়ার পর রান বাড়াতে গিয়ে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যান। পারেননি। ফেরেন ক্যাচ দিয়ে। ৩৬ বলে ৫ রানে থামে রিতুর লড়াই।

ফাহিমা খাতুন (৭), নাহিদা আক্তাররাও (১) দাঁড়াতে পারেননি। দলকে দেড়শ পার করে দেন সোবহানা। শেষ পর্যন্ত ১০৮ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৬০ রান করে থামেন তিনি।

শেষদিকে রাবেয়া খান ঝড় তুলে আরও একটু এগিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ২৭ বলে ৪৩ রানের ইনিংসে ৬টি চার আর ১টি ছক্কা হাঁকান রাবেয়া।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন