বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

আরব আমিরাতকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে সুপার ফোরে পাকিস্তান

আরব আমিরাতকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’ থেকে সুপার ফোরে পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

পাকিস্তান এশিয়া কাপ ২০২৫ টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের পারফরম্যান্সে আবারো আত্মপ্রকাশ করেছে। স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৪১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে পাকিস্তান ‘এ’ গ্রুপ থেকে সুপার ফোরে পৌঁছেছে। এই জয়ে দলটি ভারতসহ গ্রুপের শীর্ষস্থানে নিশ্চিত অবস্থান নিয়েছে। ম্যাচে পাকিস্তানের বোলিং ও ব্যাটিং উভয় বিভাগই দারুণ দেখিয়েছে। বিশেষ করে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেওয়া বোলাররা দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। এ ফলাফলের সঙ্গে পাকিস্তান আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে সুপার ফোরের প্রস্তুতি শুরু করবে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৪৬ রান তুলেছিল পাকিস্তান। জবাবে ১৭.৪ ওভারে ১০৫ রানে গুটিয়ে যায় আরব আমিরাত। এতে ছোট পুঁজি নিয়েও বড় জয় তুলে নিয়ে আরব আমিরাতের বিদায় নিশ্চিত করেছে সালমান আগার দল। 

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১৪৬ রান করে পাকিস্তান। পরে ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরু করেছিল আরব আমিরাত। দুই ওভারে তোলে ১৯ রান। তৃতীয় ওভারে আঘাত হানেন শাহিন আফ্রিদি। বাইরের বল স্টাম্পে টেনে বোল্ড হন আলিশান শরাফু (৮ বলে ১২)। পরের ওভারে হারিস রউফ ১২ দিলে ৪ ওভারেই ১ উইকেটে ৩৫ রান তোলে আরব আমিরাত। 

সেখান থেকে লড়াইয়ে ফেরে পাকিস্তান। আবরার আহমেদের বলে চোখ ধাঁধানো এক ক্যাচে ফেরেন অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম ১৫ বলে ১৪)। পরের ওভারে মোহাম্মদ জুহাইবকে (৯ বলে ৪) বোল্ড করেন সাইম আইয়ুব। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৮ রান তুলতে পারে আরব আমিরাত।

সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে ধ্রুব পারেশার আর রাহুল চোপড়া আরব আমিরাতকে আশা দেখান। এই উইকেটে ৫১ বলে ৪৮ রান যোগ করেন তারা। অবশেষে ১৪তম ওভারে এই জুটি ভাঙেন হারিস রউফ। ২৩ বলে ২০ করে ফেরেন ধ্রুব। পরের ওভারে আসিফ খানকে শূন্য রানে বোল্ড করেন আবরার। ৮৮ রানে ৫ উইকেট তুলে নেয় পাকিস্তান।

এরপরই লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে আরব আমিরাত। পরের দুই ওভারে হারায় আরও দুই উইকেট। অধিনায়ক সালমান আগা বল হাতে নিয়েই আউট করেন সেট ব্যাটার রাহুল চোপড়াকে (৩৫ বলে ৩৫)। একশর আগে (৯৮ রানে) ৭ উইকেট হারানো আমিরাত আর পেরে উঠেনি শেষ পর্যন্ত। ১৭.৪ ওভারে ১০৫ রানে অলআউট হয় স্বাগতিক দল।

পাকিস্তানের শাহিন আফ্রিদি, হারিস রউফ আর আবরার আহমেদ নেন দুটি করে উইকেট।

এর আগে, পাকিস্তানের মান বাঁচালেন ফখর জামান আর শাহিন শাহ আফ্রিদি। ফখরের মারকুটে ফিফটি আর আফ্রিদির শেষের ক্যামিওতে ভর করেই বাঁচামরার ম্যাচে ৯ উইকেটে ১৪৬ রান তুলতে পারে পাকিস্তান। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। রানের খাতা খোলার আগেই ডিপ থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইম আইয়ুব (২ বলে ০)। এ নিয়ে এশিয়া কাপে তিন ম্যাচেই ডাক মারলেন এই ওপেনার।

শাহিবজাদা ফারহান ১২ বল খেলে মাত্র ৫ রান করে উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে হন জুনায়েদ সিদ্দিকির দ্বিতীয় শিকার। ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। তৃতীয় উইকেটে ফখর জামান আর সালমান আগা ৫১ বলে ৬১ রানের জুটিতে বিপদ অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছিলেন। ২৭ বলে ধীরগতির ২০ রান করে সালমান ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর আবার বিপদে পড়ে পাকিস্তান।
 
ফিফটি করেই সাজঘরের পথ ধরেন ফখর। ৩৬ বলে তার ৫০ রানের ইনিংসে ছিল ২ চার আর ৩ ছক্কার মার। সিমরানজিত সিংয়ের শিকার হয়ে হাসান নেওয়াজ ৩ আর খুশদিল শাহ ফেরেন ৪ করেই। একশর আগে (৯৩ রানে) ৬ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৪ রানে আউট হন মোহাম্মদ নেওয়াজও। 

ঝড় তুলতে গিয়ে ১৪ বলে ১৮ রানের ইনিংস খেলে জুনায়েদের বলে বোল্ড হন মোহাম্মদ হারিস। ভারত ম্যাচের মতো শেষদিকে এসে ঝড় তুলে দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ১৪ বলে ৩ চার আর ২ ছক্কায় ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। 

আরব আমিরাতের জুনায়েদ সিদ্দিকি মাত্র ১৮ রানে নেন ৪টি উইকেট। ২৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন সিমরানজিত সিং। 

এই জয়ে গ্রুপ–এ থেকে ভারত ও পাকিস্তান দুই দলই পা রাখলো সুপার ফোরে। ‘এ’ গ্রুপে তিন ম্যাচ খেলে ৪ পয়েন্ট হয়েছে পাকিস্তানের। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট ভারতের। আরব আমিরাত ৩ ম্যাচে ২ আর ওমান ২ ম্যাচে ০ পয়েন্ট নিয়ে ছিটকে পড়েছে। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৬/৯ (ফখর ৫০, আফ্রিদি ২৯*, সালমান ২০; জুনাইদ ৪/১৮, সিমরানজিৎ ৩/২৬)।

আরব আমিরাত: ১৭.৪ ওভারে ১০৫ (চোপড়া ৩৫, পারাশার ২০; আবরার ২/১৩, আফ্রিদি ২/১৬, রউফ ২/১৯)।

ফল: পাকিস্তান ৪১ রানে জয়ী।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ