আফগানিস্তানকে হারালেও ভাগ্য লঙ্কানদের হাতে

এশিয়া কাপে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৮ রানে হারিয়ে সুপার ফোরের লড়াইয়ে টিকে থাকল টাইগাররা।
বাংলাদেশের দেওয়া সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় আফগানিস্তান। তবে চাপের মুহূর্তে বোলারদের দৃঢ়তায় জয় তুলে নেয় সাকিব আল হাসানের দল। ম্যাচের শেষ ওভারে দরকার ছিল ১২ রান, কিন্তু আফগান ব্যাটাররা তা করতে ব্যর্থ হন।
এর আগে ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটাররা। মাঝের দিকে কয়েকটি দ্রুত উইকেট হারালেও শেষ দিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লড়াই করার মতো সংগ্রহ গড়ে টাইগাররা।
এই জয়ে সুপার ফোরের আশা জিইয়ে রাখলেও এখনো নিশ্চয়তা পায়নি বাংলাদেশ। পরবর্তী ধাপে যেতে হলে তাকিয়ে থাকতে হবে শ্রীলঙ্কার ম্যাচের ফলাফলের দিকে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি এক দারুণ মুহূর্ত হলেও সামনের ম্যাচগুলোই নির্ধারণ করবে টাইগাররা সুপার ফোরে জায়গা করে নিতে পারবে কি না।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জয়ের জন্য ১৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৪৬ রানে অলআউট হয়েছে আফগানরা। জয়ের জন্য শেষ ওভারে ২২ রান দরকার ছিল আফগানিস্তানের। তবে মোস্তাফিজের করা শেষ ওভারের শেষ বলে নুর আহমেদ নুরুল হাসানের হাতে ক্যাচ দিতেই শেষ ম্যাচ। ফলে ৮ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সুপার ফোরে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলো বাংলাদেশ দল।
এশিয়া কাপে শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে জিতলে টিকে থাকবে আশা, হারলেই বিদায়-কাযত বাঁচা-মরার এমন সমীকরণের ম্যাচে বাংলাদেমের জয়টা আসতে পারতো আরও সহজে, ব্যবধান হতে পারতো আরও বেশি। ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান শুরুতেই নড়বড়ে অবস্থায় পড়ে। নাসুম আহমেদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাওয়ারপ্লেতে হারায় দুই উইকেট। এরপরও লড়াই চালান গুরবাজ (৩৫) ও আজমাতুল্লাহ ওমরজাই (৩০)। শেষ দিকে অধিনায়ক রশিদ খান (২০) ও নূর আহমেদ (১৪) ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায়।
কিন্তু তাসকিন, নাসুম আর মোস্তাফিজুর রহমানের শেষ মুহূর্তের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে পেরে উঠেনি আর আফগান ব্যাটাররা। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজুর রহমান নেন ৩ উইকেট (৪-০-২৮-৩)। সমান কার্যকর ছিলেন নাসুম আহমেদ (৪-১-১১-২) ও রিশাদ হোসেন (৪-০-১৮-২)। তাসকিন আহমেদও শেষ মুহূর্তে তুলে নেন ২ উইকেট। শেষ ওভারে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ২২ রান। তাসকিনের বলে ছক্কা মেরে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান নূর। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মুস্তাফিজ-তাসকিনদের সামনে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। সেই সঙ্গে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সুপার ফোরের আশাও বাঁচিয়ে রাখল টিম টাইগার্স।
এই জয়ে তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে টপকে আপাতত পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে দুটি জয় পাওয়া শ্রীলঙ্কার পয়েন্টও ৪। তবে শ্রীলঙ্কা নেট রান রেটের হিসেবে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। শ্রীলঙ্কার নেট রাট রেট +১.৫৪৬, বাংলাদেশের –০.২৭০। এই শ্রীলঙ্কার হাতেই অবশ্য বাংলাদেশের সুপার ফোরে ওঠার চাবিকাঠি। বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা আফগানিস্তানকে হারালেই সুপার ফোরে যাবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলেও বাংলাদেশই উঠবে সুপার ফোরে। তবে আফগানিস্তান জিতে গেলে আফগানরা উঠে যাবে সুপার ফোরে।
এর আগে, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ১৫৪ রান। ৩১ বলে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ওভারেই দু’বার আউট হতে গিয়ে বেঁচেছিলেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় বলেই জোরালো আবেদন উঠেছিল আউটের। এরপর পঞ্চম বলে ক্যাড ড্রপ হলো। ঘটনাবহুল প্রথম ওভারে উঠলো ৩ রান।
এরপর ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন সাইফ হাসান এবং তানজিদ তামিম। আফগানিস্তান বোলারদের উইকেটের চারপাশে খেলে ১ম পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে রান তুললেন ৫৯টি। কিন্তু পাওয়ার প্লে’র পরের ওভারে বল করতে আসা রশিদ খানকে আর সামলাতে পারলেন না পারভেজ হোসেন ইমনের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া সাইফ হাসান। ৭ম ওভারের চতুর্থ বলে রশিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে গেলেন তিনি। ২৮ বলে করলেন ৩০ রান। ২টি বাউন্ডারির সঙ্গে ১টি ছক্কার মার মারেন তিনি।
আবার ৬৩ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে এটাই স্বস্তির যে, উদ্বোধনী জুটিতে কিছু রান উঠলো আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সাইফ হাসান আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন কিছুদিন ধরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিটন দাস। কিন্তু মাঠে নামার পর থেকে কোনোভাবেই স্বচ্ছন্দে খেলতে পারলেন না। ১১টি বল মোকাবেলা করে ৯ রান করলেন তিনি। একটি বাউন্ডারি বা ছক্কার মার মারতে পারলেন না তিনি। দলীয় ৮৭ রানের মাথায় আউট হয়ে যান লিটন।
তবে তানজিদ তামিম আরেক প্রান্তে থেকে স্বচ্ছন্দে ব্যাট করছিলেন। ২৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মার ছিল তার এই অর্ধশতকের ইনিংসে। হাফ সেঞ্চুরির পরই আউট হয়ে যান তানজিদ তামিম। ৩১ বলে ৫২ রান করে বিদায় নিলেন তিনি। পরে তাওহিদ হৃদয় খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। ২০ বলে ২৬ রান করেন তিনি। শামীম হোসেন পাটোয়ারী ১১ বলে ১১ রান করে আউট হন। শেষ দিকে জাকের আলী অনিক ১৩ বলে ১২ রানে এবং নুরুল হাসান সোহান ৬ বলে ১২ রান করেন।
আফগানদের হয়ে রশিদ খান এবং নুর আহমাদ ২টি করে উইকেট নেন। ১টি উইকেট নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ১৫৪/৫ (তানজিদ তামিম ৫২, সাইফ ৩০ ; রশিদ ২/২৬)
আফগানিস্তান: ১৪৬/১০ (গুরবাজ ৩৫, ওমরজাই ৩০ : মোস্তাফিজ ৩/২৮)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৮ রানে জয়ী
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তাওহিদ হৃদয়, শেখ মেহেদী হাসান, নুরুল হাসান, জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।
আফগানিস্তান একাদশ: রহমানুল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), সেদিকুল্লাহ অটল, ইবরাহিম জাদরান, গুলবাদিন নাইব, করিম জানাত, আজহমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান (অধিনায়ক), নুর আহমাদ, এএম গজনফার, ফজলহক ফারুকি।