এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান মহারণে পাকিস্তানকে হতাশ করল ভারত

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই সমর্থকদের উন্মাদনা, উত্তেজনা আর আবেগের ঝড়। মাঠের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে সেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুটা ফিকে হলেও দর্শকদের আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মুখোমুখি লড়াই মানেই আলাদা আবহ।
গত কয়েক বছরে দুই দলের দ্বৈরথের ফলাফল যেন বারবার একই চিত্রই ফুটিয়ে তুলেছে—ভারতের আধিপত্য আর পাকিস্তানের হতাশা। এবারের এশিয়া কাপ শুরুর আগেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি এই উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই উত্তাপের ছিটেফোঁটা না থাকলেও ফলাফলটা ছিল পুরনো চিত্রেরই পুনরাবৃত্তি। শক্তিশালী ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারত ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেয় শুরু থেকেই। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে হতাশ করে আরেকবার জয়ের আনন্দে ভাসে ভারতীয় শিবির।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনার কমতি থাকে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের ক্রিকেটে সেই উত্তেজনার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না। গেল কয়েক বছরে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফলটাও যেন ঘুরেফিরে একই। এবারের এশিয়া কাপের আগেও দুই দলের মহারণ ঘিরে কম উত্তাপ ছড়ায়নি। সম্প্রতি দেশ দুটির মধ্যকার সংঘাত যেন আরও রসদ জুগিয়েছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে পাকিস্তানকে আরও একবার হতাশ করল ভারত।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৫ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান তোলে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৬.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই সেই লক্ষ্য সহজেই টপকে যায় ভারত। সেই সঙ্গে টানা দুই জয়ে প্রথম দল হিসেবে সুপার ফোরে এক পা দিয়ে রাখল সূর্যকুমার যাদবের দল।
১২৮ রানের নাগালে থাকা টার্গেট তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরুর আভাস দিয়েছিল ভারত। তবে বেশিদূর এগোতে পারেননি শুভমান গিল। সাইম আইয়ুবের টানা দুই বলে চার মারার স্টাম্পড হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। বিদায়ের আগে ৭ বলে ১০ রান করেন এই ওপেনার। গিলের বিদায়ের পর ঝড় তোলেন আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মা। আফ্রিদির প্রথম ওভারে একটি করে চার–ছক্কার পর তার দ্বিতীয় ওভারেই একটি করে চার–ছক্কা মেরেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
তবে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে অভিষেক শর্মাকে ফেরান সাইম আইয়ুব। বড় শট খেলতে গিয়ে ফাহিম আশরাফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ৩১ রান। এরপর দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে থাকেন সূর্যকুমার যাদব ও তিলক ভার্মা। তবে দলীয় ৯৭ রানের মাথায় সাইয়ুব আইয়ুবের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিলক। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩১ বলে ৩১ রান।
এরপর দলের হয়ে বাকি কাজটা শেষ করেন অধিনায়ক সূযকুমার যাদব ও তিলক বার্মা। ১৫ দশমিক ৫ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। ৩৭ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন সূর্য। এদিকে পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে একমাত্র সাফল্য পেয়েছেন ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়া সাইম আইয়ুব। একাই তিন উইকেট শিকার করেছেন।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বৈধ বলেই উইকেট হারায় পাকিস্তান। হার্দিক পান্ডিয়ার করা অফ স্টাম্পের বাইরের কিছুটা খাটো লেংথের বল বৃত্তের ভেতরে দাঁড়ানো ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে বুমরাহর হাতে ধরা পড়েন সাইম আইয়ুব। তিনে নেমে দলের বিপদ আরও বাড়িয়েছেন মোহাম্মদ হারিস। দ্বিতীয় ওভারে বুমরাহর বলে হার্দিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ বলে ৩ রান করেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেছিলেন শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন তারা। তবে উইকেটে থিতু হয়েও বাজে শটে উইকেট দিয়েছেন ফখর। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ১৫ বলে করেছেন ১৩ রান। এরপর সালমান আলি আগা, হাসান নাওয়াজ, মোহাম্মদ নাওয়াজরা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। এক প্রান্তে এমন ব্যাটিং ধসের মাঝেও আরেক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেছেন ফারহান। এই তরুণ ওপেনার ৪৪ বলে করেছেন ৪০ রান।
ফারহান আউট হওয়ার পর অনেকেই এখানেই পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ ভেবেছিলেন। তবে আফ্রিদি সেটা হতে দেননি। আরও একবার নিজের পাওয়ার হিটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দেখালেন তিনি। ১৬ বলে চার ছক্কায় অপরাজিত ৩৩ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।
ভারতের হয়ে বোলিংয়ে কুলদীপ যাদব একাই নেন ৩ উইকেট। ২টি উইকেট শিকার করেন বুমরাহ ও অক্ষর প্যাটেল। বরুণ ও হার্দিক নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।