আতঙ্কের মাঝেও আন্দোলনে নামতে চেয়েছিলেন জামাল ভূঁইয়া

নেপালে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের সময় এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। দেশটিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ বাতিল হয় এবং পুরো দলকে হোটেলবন্দী অবস্থায় দিন কাটাতে হয়।
জামাল ভূঁইয়া জানান, সেই সময় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও তিনি আন্দোলনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। কেন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা জেগেছিল, সেটিও তিনি খোলামেলা ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার ভাষায়, “আমরা প্রতিদিন হোটেলের জানালা দিয়ে পাশের ভবনে আন্দোলনের দৃশ্য দেখতাম। মনে হতো, তারাও নিজেদের অধিকার নিয়ে লড়ছে। আমিও তাদের পাশে দাঁড়াতে চাইছিলাম।”
দীর্ঘ সময় বন্দিত্বের মতো পরিস্থিতিতে কাটানো এবং প্রতিটি মুহূর্তে কী ঘটতে পারে সেই ভয়ে থাকা ছিল অত্যন্ত দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এখনো সেই স্মৃতি তাকে নাড়া দেয়। তবে এই ভয়ঙ্কর অবস্থার মাঝেও আন্দোলনের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করাই জামাল ভূঁইয়ার মানবিক দিককে ফুটিয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, খেলোয়াড়রা শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজ ও মানুষের দুঃসময়েও তাদের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করা জরুরি।
নেপালে গণআন্দোলনের কারণে একটি ম্যাচ বাতিল হয়। এরপর বাংলাদেশ দল হোটেলবন্দী জীবন কাটাতে বাধ্য হয় এবং পাশের ভবনে আন্দোলনের দৃশ্য দেখতে হয়। অনিশ্চয়তায় কেটেছে প্রতিটি মুহূর্ত। দুঃসহ স্মৃতি এখনও জামাল ভূঁইয়াকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তবুও, এই পরিস্থিতির মাঝেও আন্দোলনে অংশ নেয়ার আগ্রহ জাগেছিল জেবিসিক্সের।
বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেন, সত্যিই আমি আন্দোলনে ওদের সঙ্গে যেতে চেয়েছিলাম। কারণ, হোটেলে থাকলে আমি নিরাপত্তাহীন থাকব, কিন্তু ওদের সঙ্গে গেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগব না।
হোটেলে জিম সেশনের পর বাকি সময় কেমন কেটেছে এবং বাকি ফুটবলার ও কোচিং স্টাফ কেমন ছিলেন এই বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন। ঢাকা ফেরার পরদিন রাজধানীর এক স্কুলের অনুষ্ঠানে তিনি স্মৃতিচারণ করেছেন।
জামাল ভূঁইয়া বলেন, বাইরে দেখেছি দুটি বাসায় আগুন লাগানো হয়েছে, মনে হয় কোনো এক এমপির বাড়ি ছিল। তার গাড়ি ভেঙে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ওই সময় আমি একটু ভয় পেয়েছিলাম। আমরা সবাই একসঙ্গে হোটেলে ছিলাম।
নেপালে মূলত দুই ম্যাচের বদলে মাত্র একটি ম্যাচ খেলা সম্ভব হয়েছে। হংকংয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতির জন্য এটি যথেষ্ট মনে করছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৯ অক্টোবরের আগে অন্তত একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চান তিনি।
জামাল ভূঁইয়া বলেন, আমি নিশ্চিত নই, দেখব সম্ভব কিনা। তবে একান্তভাবে বলতে চাই, যদি হংকং ম্যাচের আগে আরেকটি ম্যাচ খেলতে পারি, তা আমাদের জন্য ভালো হবে।
দেশে ফিরেও বিশ্রামের সময় কম ছিল ফুটবলারদের। এক সপ্তাহ পরই ঘরোয়া মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে।