লিটনের রেকর্ড কাঁপানো ছক্কা, ব্যাট হাতে নতুন সব মাইলফলক

সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলমান এশিয়া কাপেও উজ্জ্বল বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫৯ রানের ইনিংসে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। এই ইনিংস খেলার পথে ব্যাট হাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড নিজের করে নেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার। বর্তমানে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো খেলোয়াড়ও লিটন।
আবুধাবির আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে গতকাল আগে ব্যাট করা হংকং ১৪৩ রান তুলেছিল। বাংলাদেশের পক্ষে দুটি করে উইকেট শিকার করেন তাসকিন-সাকিব-রিশাদ। এরপর লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশকে শুরু থেকে পথ দেখান লিটন। পারভেজ হোসেন ইমন ১৪ বলে ১৯ ও তানজিদ তামিম ১৮ বলে ১৪ রানে ফিরলে জয়ের পথ সুগম করে লিটন ও তাওহীদ হৃদয়ের ৯৫ রানের জুটি। লিটন ৩৯ বলে ৫৯ রানে ফিরলেও হৃদয় ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দলের জয় নিশ্চিত করার পথে ৬টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান লিটন। এর মধ্য দিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৭৭ ছয়ের রেকর্ড টপকে যান তিনি। কালকের ম্যাচে নামার আগে দুজনের সমান ছক্কা ছিল। ১১১তম ম্যাচ খেলতে নেমে লিটন ৭৮ ছক্কা হাঁকিয়ে শীর্ষে উঠেছেন। এর আগে মাহমুদউল্লাহ ৭৭ ছক্কা হাঁকান ১৪১ ম্যাচে। টাইগারদের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রানসংগ্রাহকের তালিকায়ও দুই নম্বরে উঠেছেন লিটন, এদিক থেকেও তিনি টপকে গেছেন মাহমুদউল্লাহকে।
- টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ রান
- সাকিব আল হাসান — ২৫৫১ রান (১২৯ ম্যাচ)
- লিটন দাস — ২৪৯৬ রান (১১১ ম্যাচ)
- মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ — ২৪৪৪ রান (১৪১ ম্যাচ)
- তামিম ইকবাল — ১৭০১ রান (৭৪ ম্যাচ)
- মুশফিকুর রহিম — ১৫০০ রান (১০২ ম্যাচ)
এদিকে, বর্তমানে খেলছেন বাংলাদেশের এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় লিটনের পর ওপরের দিকে আছেন সৌম্য সরকার (৫৫) ও জাকের আলি অনিক (৩৮)। এ ছাড়া সাকিব আল হাসান ৫৩, তামিম ইকবাল ৪৪, আফিফ হোসেন ৩৮, তাওহীদ হৃদয় ৩৭, মুশফিকুর রহিম ৩৭, তানজিদ তামিম ৩৪ ও সাব্বির রহমান ২৯টি ছয় হাঁকিয়েছেন।
এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করার দিক থেকেও লিটন এখন দুইয়ে আছেন। ২০১৬ আসরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮০ রান করা সাব্বির রহমানের অবস্থান এখনও শীর্ষে। এ ছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৪৮*, সৌম্য ৪৮ ও মোহাম্মদ মিঠুন ৪৭ রান করেছেন। গতকাল হংকংয়ের লক্ষ্য তাড়ায় লিটন-হৃদয় মিলে গড়েন ৯৫ রানের জুটি। যা এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ। এর আগে সাকিব-সাব্বির মিলে ২০১৬ আসরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮২ রানের জুটি গড়েছিলেন।