সিরাজগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সিনিয়র প্রশিক্ষক (পশুপালন) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালি কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বাইরে রেজিস্টার খাতা পূরণ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বও প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়ে করানো হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়ে তার কোয়ার্টারের সামনের বাগান পরিষ্কার করানো হয়। এমনকি গরুর গোবর সংগ্রহ করে তা জৈব সার হিসেবে বাগানে ব্যবহার করতেও বাধ্য করা হয়েছে। এতে প্রশিক্ষণার্থীরা শারীরিকভাবে অতিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের মর্যাদাহানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
৫৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী অপু তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, আমরা দক্ষতা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে এখানে এসেছি। অথচ আমাদের দিয়ে বাগান পরিষ্কার, গোবর টেনে নেওয়ার মতো কাজ করানো হচ্ছে। এসব আমাদের জন্য অপমানজনক ও হতাশাজনক।
একই ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী মোখলেছুর রহমান মামুন বলেন, প্রশিক্ষণের নামে প্রতিদিন অপ্রাসঙ্গিক ও শ্রমসাধ্য কাজ করানো হচ্ছে। এতে আমরা পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ভবিষ্যতে আমাদের পেশাগত জীবনে ক্ষতির কারণ হবে।
আরেকজন প্রশিক্ষণার্থী মহসিন হোসেন জানান, এখানে আসার আগে ভেবেছিলাম আধুনিক ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ পাবো। কিন্তু বাস্তবে আমাদের ব্যবহার করা হচ্ছে বিনা মজুরির শ্রমিকের মতো। এতে আমরা মানসিক কষ্ট পাচ্ছি।
এদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সম্মানজনক পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না হলে যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
সিনিয়র প্রশিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে মাঝে বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে কিছু কার্যক্রমে অংশ নিতে বলা হয়। তবে ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক কাজ করানোর বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এটি সরাসরি আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে না পড়লেও অভিযোগগুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।