বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

দেশের মাটিতে শেষবার জোড়া গোল, আবেগ ছড়ালেন মেসি

দেশের মাটিতে শেষবার জোড়া গোল, আবেগ ছড়ালেন মেসি
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আর্জেন্টিনা দলের ওয়ার্ম-আপের সময়ই ভিন্ন এক আবহ তৈরি হয়। কালো জ্যাকেট পরে স্ট্রেচিং করছিলেন লিওনেল মেসি। বাইরে থেকে দেখলে মনে হচ্ছিল স্বাভাবিক অনুশীলন, কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে ছিল অন্যরকম আবেগ।

ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে জয়ের দিনে সমর্থকদের দুঃসংবাদ দিলেন মেসি

ক্যারিয়ারে অগণিত গোল ও অ্যাসিস্ট উপহার দেওয়া এই মহাতারকা চোখের পানিকে আটকাতে পারছিলেন না। এস্তাদিও মনুমেন্তাল ভরা ছিল দর্শকের আবেগে, আর মেসির চোখও তখন ভেজা।

এই স্টেডিয়ামেই ২০০৫ সালের ৯ অক্টোবর আর্জেন্টিনার হয়ে দেশের মাটিতে প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন মেসি। ২০ বছর পর সেই একই মাঠে আবারও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে খেললেন তিনি। তবে এবারের অনুভূতি আলাদা—কারণ আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেশের মাটিতে এটিই ছিল তাঁর শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।

এএফএ প্রীতি ম্যাচ আয়োজন না করলে মেসিকে আর কখনো জাতীয় দলের হয়ে আর্জেন্টিনার দর্শকদের সামনে মাঠে দেখা যাবে না।

মনুমেন্তালের গ্যালারি ছিল উৎসবের ঢাক আর বিদায়ের সুরে মুখর। দর্শকের কণ্ঠে বারবার বেজেছে, “ওলে, ওলে, ওলে… মেসি, মেসি, মেসি!”—যেন বিদায়ী নায়ককে শেষবার ভালোবাসায় ভাসিয়ে দিতে চাইছিল পুরো আর্জেন্টিনা।

৩৮ বছর বয়সেও মেসি দেখালেন কেন তিনি আলাদা। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩–০ গোলের জয়ে তাঁর নাম উঠল স্কোরশিটে। ৩৯ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পাস থেকে হুলিয়ান আলভারেজ বল বাড়ান মেসির কাছে। কেউ শক্ত শটে গোল করার চেষ্টা করতেন, কিন্তু মেসি বেছে নিলেন শৈল্পিক চিপ—বলটি বাতাসে ভেসে জালে জড়িয়ে গেল, যেন কোনো চিত্রকর্মের আঁচড়!

Lionel Messi Argentina 2025

৩২৪ দিন পর জাতীয় দলের হয়ে গোল পেলেন তিনি। পরে থিয়াগো আলমাদার ক্রসে আরেকটি গোলও যোগ করলেন। তবে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে তাঁর নৈপুণ্য, যেটা পুরো ম্যাচজুড়ে দর্শকের আবেগকে উসকে দিয়েছে। এমনকি লাওতারো মার্তিনেজের হেডে করা গোলও অনেকে মনে রাখবেন কেবল এজন্য যে, ফ্রি–কিক থেকে পাজকে ডিফেন্সচেরা পাস দিয়েছিলেন মেসি।

হ্যাটট্রিকও হতে পারত, কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হলো শেষ মুহূর্তের গোল। তারপরও মনুমেন্তালে উপস্থিত দর্শকের চোখে জল, কণ্ঠে গান—সবই মেসিকে ঘিরে।

জাতীয় সংগীতের সময় সন্তানদের নিয়ে সতীর্থদের পাশে দাঁড়ানো মেসির চোখেও ধরা পড়ল অশ্রুভেজা অনুভূতি। স্ত্রী রোকুজ্জোও গ্যালারিতে কখনো হাসলেন, কখনো গম্ভীর মুখে তাকিয়ে রইলেন—শেষবারের মতো দেশের মাটিতে মেসিকে খেলার দৃশ্যটিই যেন হৃদয় ভারী করে দিচ্ছিল।

জাতীয় সংগীতের সময় মেসির সঙ্গে তাঁর তিন ছেলে

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে গোল করার পাশাপাশি মেসি কোয়ালিফায়ারের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার রেকর্ডও বাড়িয়েছেন। এখন তার সংগ্রহ ৩৭ গোল, যা তাকে বর্তমান আসরের সর্বাধিক গোলদাতার লুইস দিয়াজকে ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করেছে। মেসি এই কৃতিত্ব প্রথম অর্জন করেছিলেন ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পর থেকে।

মেসি নিজেও এই ম্যাচকে বিশেষ মনে করছেন। তিনি ম্যাচের আগে জানান, ‘ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে আমার জন্য খুবই বিশেষ ম্যাচ হবে, কারণ এটি আর্জেন্টিনার মাটিতে আমার শেষ কোয়ালিফায়ার ম্যাচ। আমার স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা, ভাইবোন এবং যারা পারবেন তারা সবাই আমার সঙ্গে থাকবেন।’

চিত্র

আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু সমর্থকদের কাছে এটাই ছিল আবেগমথিত বিদায়ী মুহূর্ত। হয়তো জুনে প্রীতি ম্যাচ হলে তাঁকে আবার দেখা যাবে, না হলে এটাই দেশের মাটিতে জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।

রেফারিরা যোগ করা সময়টা যদি অনন্তকাল করতেন, আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা তাতেই খুশি থাকতেন—কারণ মেসিকে মাঠে দেখা মানেই তো এক অবিনশ্বর আবেগ !


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ