ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশি কিশোরীদের সাফ অ-১৭ নাটকীয় জয়

সাফ অ-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা নিশ্চিত করেছে ভারত আগেই। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচটিও হয়ে উঠল রোমাঞ্চকর। শনিবার (তারিখ) অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে ভরপুর ছিল দুই দল।
প্রথম রাউন্ডে ভারত ২-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। সেই হারের বদলা নিতেই যেন নতুন উদ্যমে মাঠে নামে অর্পিতারা। ম্যাচজুড়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কখনো ভারত এগিয়ে যায়, কখনো বাংলাদেশ সমতায় ফিরে আসে।
শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তা জমে ওঠে ইনজুরি টাইমে। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ। ফলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
বাংলাদেশের এই জয় শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচের সাফল্য নয়, বরং ভারতের কাছে প্রথম রাউন্ডের হারেরও প্রতিশোধ। একই সঙ্গে তরুণ ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর মতো বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠেছে এ জয়।
ভারত টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন এরপরও আজ ম্যাচের শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় ফুটবলাররা কেঁদেছেন। আর বাংলাদেশ বিজয় উল্লাস করেছে। কারণ ম্যাচের ৮৮ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল। ভারত নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগে সমতা আনে। এরপর ইনজুরি সময়ের শেষ মিনিটে বাংলাদেশ গোল করলে ভারতকে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। নাটকীয় এই হার ভারতীয় ফুটবলাররা কোনোভাবেই যেন মানতে পারছিলেন না!
বাংলাদেশের জয়সূচক গোলটাও বেশ নাটকীয়। একেবারে শেষ মিনিটে ভারতের বক্সের উদ্দেশ্যে বল নিয়ে ছুটছিলেন সুরভী আকন্দ প্রীতি। তার নেয়া শট ভারতীয় গোলরক্ষকের গ্রিপ ফসকে সাইড পোস্টে লাগে। এরপর বল গড়িয়ে ভারতের জালে জড়ায়। এতে বাংলাদেশের ফুটবলাররা আনন্দ মেতে উঠেন আর ভারত কাঁন্নায় ভেঙে পড়েন। কিক অফের পরপরই রেফারি শেষ বাশি বাজান।
প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল। সুরভী আকন্দ প্রীতি ৪৭ মিনিটে লিড বাড়িয়ে ৩-১ করেন। অনেকে তখন ম্যাচের শেষ দেখলেও রোমাঞ্চ ছিল অনেক বাকি। ৬৫ মিনটে বাংলাদেশি ডিফেন্ডারের ভুলে ভারত আবার এগিয়ে যায়। ভারতের বাড়ানো এক লং বল বাংলাদেশি ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করতে পারেননি। ভারতীয় ফরোয়ার্ড ডান প্রান্ত থেকে কোনাকুনি শটে গোল করেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক বক্স থেকে বেরিয়ে আসছিলেন। তার মাথার উপর দিয়ে বল পোস্টে পাঠান প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়। ম্যাচের ৮৮ মিনিটেও বাংলাদেশ আরেকটি দূর পাল্লার শটে গোল হজম করে। এবারও বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেঘলা পোস্ট থেকে সামনে ছিলেন। ভারতীয় ফুটবলার সেটা লক্ষ্য করেই গোল করেছেন। ৮৯ মিনিটে খেলা ৩-৩ সমতা আসলেও ইনজুরি সময়ের নাটকীয় গোলে বাংলাদেশ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে। বাংলাদেশকে জয় এনে দেওয়া প্রীতি ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন।

ম্যাচের শুরুটাও হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য দারুণ। প্রথম মিনিটেই পূর্ণিমা মারমা দুর্দান্ত হেডে গোল করেন। সাত মিনিট পর ভারত সমতা আনে। ৩৬ মিনিটে জটলার মধ্যে আলপী আক্তারের গোলে লীড নিয়ে ড্রেসিংরুম ছাড়ে বাংলাদেশ।
সাফ অ-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে চার দল ডাবল রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে ছয়টি ম্যাচ খেলছে। ছয় ম্যাচে ভারতের পয়েন্ট ১৫। বাংলাদেশের ১৩। ভুটানের বিপক্ষে ড্র না করলে বাংলাদেশেরও সমান ১৫ পয়েন্ট থাকত। তখন হেড টু হেড এবং গোল ব্যবধান বিবেচনায় শিরোপা নির্ধারণ হতো।