বিসিবিতে জমা পড়ল বিপিএলের ফিক্সিং তদন্ত প্রতিবেদন

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ আসরে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)। সোমবার (২৬ আগস্ট) বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের হাতে তিন সদস্যের এই কমিটি রিপোর্টটি তুলে দেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে কী ধরনের সুপারিশ বা পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিসিবি জানিয়েছে, পরবর্তী সভায় রিপোর্টটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত একাদশ বিপিএলের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াগত দুর্বলতার অভিযোগে এই প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বিসিবি জানিয়েছে, আইসিসির নির্দেশনা মেনে সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করা হবে। প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের ব্যাপারে বিসিবির গঠনতন্ত্র, আইসিসির দুর্নীতি দমন ধারা এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তদন্তের স্বচ্ছতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার্থে আপাতত কোনো নাম প্রকাশ করা হবে না। কমিটির সুপারিশগুলো খতিয়ে দেখে বিসিবি পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
বিসিবি আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক প্রতিবেদনে বেশ কিছু জরুরি সংস্কার প্রস্তাব আছে, যেগুলো পরবর্তী বিপিএল আয়োজনে অপরিহার্য। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি প্রতিরোধব্যবস্থা ও কাঠামোগত সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো আছে সেখানে। আগামী মাসের শেষ নাগাদ তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ সর্বশেষ বিপিএলে ওঠা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড. খালেদ এইচ চৌধুরী ও সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাসেম।
বিসিবি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বোর্ড আর কোনো মন্তব্য করবে না।