একই দিনে রেকর্ড ও হতাশা, রোনালদোর কাছে অধরাই রইলো শিরোপা

২০২৩ সালে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ইউরোপিয়ান ফুটবলে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা। তার আগমনকে ঘিরে সৌদি প্রো লিগে যেমন উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তেমনি আল নাসর সমর্থকরাও আশায় বুক বেঁধেছিলেন বড় কোনো শিরোপার।
কিন্তু প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গেলেও রোনালদোর হাতে এখনও জোড়া লাগেনি সৌদি আরবের কোনো মেজর ট্রফি। সর্বশেষ সৌদি সুপার কাপের ফাইনালেও স্বপ্ন ভাঙলো আল নাসরের। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আল আহলির কাছে হার মানতে হলো রোনালদোদের।
ফাইনালে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে আল আহলি। একের পর এক আক্রমণে নাসরের রক্ষণ ভেঙে দেয় তারা। গোলের সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি রোনালদো। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় তার দলের।
এ নিয়ে আল নাসরের হয়ে আরও একটি ফাইনাল হারের হতাশা যোগ হলো রোনালদোর ক্যারিয়ারে। সৌদি প্রো লিগে নিয়মিত গোল পেলেও শিরোপার স্বাদ না পাওয়ায় সমর্থকদের হতাশা বাড়ছে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপীয় শীর্ষ লিগ থেকে সৌদি লিগে এসে রোনালদো ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ধরে রাখলেও, দলকে সাফল্যের পথে নিতে পারছেন না। ফলে আলোচনায় উঠছে—রোনালদো কি আল নাসরের হয়ে কখনো বড় কোনো শিরোপা জিততে পারবেন?
শনিবার (২৩ আগস্ট) হংকং স্টেডিয়ামে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র হলে খেলা গড়ায় ট্রাইবেকারে। কিন্তু পেনাল্টি শুট আউটে শট ঠেকিয়ে নায়ক বনে গেছেন আল আহলির গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্দি। ৩-৫ গোলে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা ঘরে তুলেছে আল আহলি।
এদিন আল নাসরের শিরোপা উদযাপনের দারুণ এক উপলক্ষ তৈরি করেছিলেন রোনালদো। ম্যাচের ৪১ মিনিটে সফল স্পটকিকে আল নাসরকে এগিয়ে দেওয়ার গোলে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি।
চারটি ভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে কমপক্ষে গোলের সেঞ্চুরি করা বিশ্বের প্রথম ফুটবলার তিনি। কিন্তু আল নাসরের হয়ে সেঞ্চুরি গোলের রেকর্ডটা রাঙাতে পারলেন না।
শুরুতে তার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বারও এগিয়ে গিয়েছিল আল নাসর। দ্বিতীয়বার এগিয়ে দিয়েছিলেন মার্সেলো ব্রোজোভিচ। অন্যদিকে আহলিকে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান কমান ফ্রেঙ্ক কেসি।
তবে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে আহলিকে সমতায় ফেরান রজার ইবানিজ। কর্নার থেকে করা তার সমতাসূচক গোলটিতে ভুল করে বসেন আল নাসরের গোলরক্ষক বেন্তো।
৮৯ মিনিটের কর্নার শটকে ফিস্ট করতে গোলবার ছেড়ে বেরিয়ে আসা বেন্তো বলের নাগালই পাননি। তখন ফাঁকা গোলবারে ইবানিজের হেড ঠিকই জাল খুঁজে নেয়। অবিশ্বাস্য কামব্যাকের পর টাইব্রেকারে জয়ের নায়ক হন মেন্দি।
প্রথম তিন শটে আল নাসরের হয়ে রোনালদো, ব্রোজোভিচ ও জোয়াও ফেলিক্স সফল হলেও আব্দুল্লাহ আল-খাইবারি পারেননি। তার নেওয়া নিচু শট ঠেকিয়ে দেন মেন্দি। অন্যদিকে আল আহলির ৫ শটই জালে জড়ায়।