মাদকের বিস্তার আগের চেয়েও ভয়াবহ, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান দুদুর

দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও মাদকের বিস্তার আগের তুলনায় আরও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, কেবল আলোচনা নয়, মাদক নির্মূলে সরকারের কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে গণতন্ত্র ফোরাম আয়োজিত ‘শিক্ষা বিস্তারে অন্তরায় মাদক ও আওয়ামী দোসরের গভীর ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, দেশে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও সাধারণ মানুষের জীবনে মাদকের ভয়াবহতা কমেনি, বরং অনেক জায়গায় তা আরও বেড়েছে। নিজের এলাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোট একটি গলিতেই মাদকের এমন বিস্তার হয়েছে যে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। তার ভাষায়, একটি ছোট এলাকার চিত্র যদি পুরো দেশের প্রতিচ্ছবি হয়, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শুধু শিক্ষার্থীরা মাদকে জড়িয়ে পড়ছে—এ কথা বললে হবে না। যারা মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, তাদের কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী ও অর্থবিত্তের অধিকারী হওয়ায় এ সংকট মোকাবিলা সহজ নয়। তাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তার ভাষায়, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সামাজিক অগ্রগতির বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে মাদক। তাই নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
দুদু বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, তা অর্থবহ করতে না পারলে গণতন্ত্রও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি দাবি করেন, কিছু মহল এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিম, সমন্বয়ক ইসমাইল হোসেন সিরাজী এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্যান্য নেতারা।