বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • বর্ষায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে শঙ্কা, জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান

    বর্ষায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে শঙ্কা, জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালেই শয্যা সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাম রোগীর চাপের মধ্যেই ডেঙ্গু রোগী বাড়তে শুরু করায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

    রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকছেন। দুর্ঘটনা, অসংক্রামক রোগ এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় রোগীদের পাশাপাশি হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৬০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। এর মধ্যেই ডেঙ্গু ও হাম রোগীদের জন্য পৃথক চিকিৎসা ব্যবস্থাও পরিচালনা করা হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা কর্নার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৪৫৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। একই সময়ে হামেও নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

    কীটতত্ত্ববিদদের মতে, এবার রাজধানীর তুলনায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি। গ্রামাঞ্চল ও ছোট শহরগুলোতে এডিস মশার বিস্তার বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    নিপসমের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. গোলাম ছারোয়ার বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে এডিস মশার ঘনত্ব নির্ণয় ও নিধন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

    রাজশাহীতেও এডিস মশার প্রজনন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক-বর্ষা জরিপে দেখা গেছে, সেখানে এডিস প্রজনন সূচক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত উচ্চ ঝুঁকির সীমার চেয়েও বেশি।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, রাজধানীর তুলনায় ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই মশক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

    জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মোস্তাক হোসেনও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসেন মোহাম্মদ মইনুল আহাসান জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন