বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • সংসদে কেনাকাটায় বিশাল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

    সংসদে কেনাকাটায় বিশাল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাতীয় সংসদের জন্য ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও মূল্যবৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

    জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার টাকার একটি ব্যাগের জন্য বিল করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা। একইভাবে প্রায় ৩ হাজার টাকার একটি কার্ড রিডারের দাম ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ টাকা। একটি ডিজিটাল স্টিল ক্যামেরার বডি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, সেটি কেনা হয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকায়। চারটি ক্যামেরা বডির জন্য মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

    সব মিলিয়ে ক্যামেরা সেট ক্রয়ে সরকারের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকা, যেখানে সংশ্লিষ্টদের মতে প্রকৃত বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকারও কম।

    এ কেনাকাটায় মোট ১২ ধরনের আইটেম অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন ফোকাল লেন্থের ক্যামেরা লেন্স, স্পিডলাইট (ফ্ল্যাশ), মেমোরি কার্ড, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা হয়েছে অতিরিক্ত দামে। উদাহরণ হিসেবে, ২৪-৭০ এমএম লেন্স প্রতিটি ১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকায় কেনা হলেও বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। আবার ১০০-৪০০ এমএম লেন্স কেনা হয়েছে ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকায়, যার বাজারমূল্য প্রায় অর্ধেকেরও কম।

    এছাড়া স্পিডলাইট (ফ্ল্যাশ), মেমোরি কার্ড ও ব্যাটারির ক্ষেত্রেও একই ধরনের মূল্যবৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্র্যান্ডের পরিবর্তে নিম্নমানের অন্য পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    এই সরঞ্জামগুলো সরবরাহ করেছে ‘সেফ ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দামি ব্র্যান্ড, ভ্যাট ও ট্যাক্সের কারণে খরচ বেশি হয়েছে। তবে বাজারমূল্যের সঙ্গে বড় পার্থক্য এবং পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তারা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

    সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই কেনাকাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এতে উচ্চপর্যায়ের তত্ত্বাবধান ছিল।

    ফটোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ অধিবেশন কক্ষের ছবি তোলার জন্য এত ব্যয়বহুল সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। তুলনামূলক কম দামের সরঞ্জাম দিয়েই ভালো মানের ছবি তোলা সম্ভব।

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন