বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • নকল ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে আইনে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার

    নকল ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে আইনে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়ম, বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে নকল ও প্রশ্ন ফাঁস প্রতিরোধে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সংশোধিত আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে।

    নতুন সংশোধনীতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ—যেমন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করা বা প্রশ্ন ফাঁস করা—আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং এসব অপরাধের শাস্তি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য হবে।

    গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো অনুমোদন পায়। খসড়া আইনে মোট ১৯টি ধারা সংযোজন ও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

    সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতি করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সংঘবদ্ধভাবে এ ধরনের অপরাধ করলে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    এসব অপরাধের বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করার প্রস্তাবও রয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


    খসড়া আইনে বিভিন্ন অপরাধের জন্য আলাদা শাস্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেমন:

    অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিলে: ২ বছর কারাদণ্ড
    প্রশ্ন ফাঁস (পরীক্ষার আগে): ৪ বছর কারাদণ্ড
    অ্যাডমিট কার্ড বা সার্টিফিকেট জাল করলে: ৪ বছর কারাদণ্ড
    উত্তরপত্র পরিবর্তন বা অতিরিক্ত পৃষ্ঠা যুক্ত করলে: ২ বছর কারাদণ্ড
    নকলে সহায়তা করলে: ২ বছর কারাদণ্ড
    অবৈধভাবে পরীক্ষা গ্রহণ বা খাতা মূল্যায়ন করলে: ২ বছর কারাদণ্ড
    দায়িত্বে থেকে অপরাধ করলে: সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড

    এছাড়া পরীক্ষক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর পরিবর্তন করেন, তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা যাবে। এসব মামলার বিচার মেট্রোপলিটন বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।

    নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী পরীক্ষার হলে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া কেউ মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদে আইনটি পাস হলে আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাতেই এর বিধান কার্যকর করা হতে পারে। ইতোমধ্যে ৩১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে— প্রশ্নপত্র নিরাপদ পরিবহন, ট্রেজারি যাচাই, নির্ধারিত সময়ের আগে কেন্দ্রে প্রবেশ, সিসিটিভি ব্যবহার, পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং কেন্দ্রের বাইরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ।

    নতুন ব্যবস্থায় ফলাফল চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে পুনঃনিরীক্ষণের পরিবর্তে খাতা পুনর্মূল্যায়ন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের আরও ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বর্তমান আইনটি ১৯৮০ সালে প্রণীত এবং ১৯৯২ সালে আংশিক সংশোধিত হয়। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে পরীক্ষায় অনিয়মের ধরন বদলে গেছে, যা বিদ্যমান আইনে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত নয়।

    টিআইবির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রশ্ন ফাঁস, জিপিএ-৫ বাণিজ্য ও খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম বেড়েছে।

    আরও জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পরীক্ষাসংক্রান্ত ২০০টি মামলার মধ্যে মাত্র ৪৫টির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সাজা হয়েছে মাত্র একটি মামলায়।

    শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু আইন কঠোর করলেই হবে না, এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আতিকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল যুগে অপরাধের ধরন বদলেছে, তাই আইন আধুনিক করা জরুরি, পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাও প্রয়োজন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আগে নকল কাগজে হতো, এখন ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে হয়। তাই কঠোর আইন ও শাস্তি প্রয়োজন। তিনি জানান, পরীক্ষকদের জবাবদিহি বাড়ানো এবং খাতা পুনর্মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাই পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এই আইন সংশোধনকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন, প্রযুক্তি ও নৈতিকতা—এই তিনের সমন্বয় ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন