বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

দুই হেভিওয়েট নেতার মন্ত্রীসভায় ডাক না পাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দুই হেভিওয়েট নেতার মন্ত্রীসভায় ডাক না পাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রাথমিকভাবে ডাক পাননি বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা। নরসিংদী-২ (পলাশ) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং নরসিংদী-১ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন —এই দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নরসিংদী জেলার রাজনীতিতে এই দুই নেতার সাংগঠনিক প্রভাব দীর্ঘদিনের। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক অবদান এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই দুই বর্ষীয়ান নেতা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাবেন। সে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ পেলেও, বিষয়টিকে নেতিবাচক না দেখে রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের মতে, মন্ত্রিসভা গঠন কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল নয়। এতে দলীয় কৌশল, ক্ষমতার ভারসাম্য, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রিসভার বাইরে রেখে সংসদ ও দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য কার্যকর হতে পারে।

কারো কারো মতে মন্ত্রিসভায় না থেকেও সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে এই দুই নেতার। সংসদীয় বিতর্ক, নীতিগত আলোচনা এবং জাতীয় ইস্যুতে দলীয় অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায়ও সহায়ক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় অভিজ্ঞ তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব না থাকায় তারা জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন। এতে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, মন্ত্রিসভায় ডাক না পাওয়ার বিষয়টি ঘিরে আলোচনা থাকলেও, তা পুরোপুরি হতাশাজনক নয়। বরং মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে—এমন মূল্যায়নই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রাধান্য পাচ্ছে। 


উল্লেখ্য, নরসিংদী -৪ (মনোহরদী- বেলাব) আসনে থেকে নির্বাচিত  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন