বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

সাভারে পরিবহন সংকটে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের পাহাড়

সাভারে পরিবহন সংকটে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের পাহাড়
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের লাখো মানুষ। তবে ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের যে বিপুল উৎসাহ নিয়ে সাধারণ মানুষ পথে নেমেছেন, পরিবহণ খাতের চরম নৈরাজ্য আর আকাশচুম্বী ভাড়ায় তা ম্লান হতে বসেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সাভারের বাইপাইল, নবীনগর ও শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহগামী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে গণপরিবহণের তীব্র সংকট দেখা দিলে সেই সুযোগ লুফে নেয় পরিবহণ সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন রুটে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া ও বাসের হেলপার-চালকদের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাইপাইল এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

যাত্রীদের সাথে কথা বলে পাওয়া গেছে এক মিশ্র অনুভূতি। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে পথে পথে হয়রানি।

আসিয়া বেগম (রংপুর গামী যাত্রী) জানায় কারখানা ছুটি হলেও এখনো বেতন পাইনি। এর মধ্যে ৫০০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা চাচ্ছে। কোলের বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।"

মশিউর (জামালপুরগামী যাত্রী): "১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে, তাই কষ্ট হলেও বাড়ি যাব। কিন্তু ৩০০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা চাওয়া কি মগের মুল্লুক?"

রাশেদুল ইসলাম সোহাগ (পোশাক শ্রমিক): "রাজশাহী যেতে হাজার টাকার বেশি চাচ্ছে। শ্রমিকদের পকেটে এত টাকা কোথায়?"

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহজাহান জানান, যাত্রীদের চাপের কারণে ভিড় তৈরি হলেও শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করছে। তবে সড়ক অবরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সাথে শিল্পাঞ্চলে ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার হওয়ায় টানা চার দিনের একটি বড় ছুটি পেয়েছেন শ্রমিকরা। নজরদারির অভাব থাকায় এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে পকেট কাটছে এক শ্রেণির অসাধু পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন