বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

ঢাকা-১৯ আসনে ভোটের হাওয়া: ধানের শীষের শক্ত অবস্থান

ঢাকা-১৯ আসনে ভোটের হাওয়া: ধানের শীষের শক্ত অবস্থান
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ নির্বাচনের আলোচনা এখন তুঙ্গে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের মতো ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) এখন প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত। শিল্পাঞ্চল হওয়ার সুবাদে এই আসনটি সব দলের কাছেই মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। এবারের নির্বাচনে মূল লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এবং জোটের নতুন সমীকরণ।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু আবারও ‘ধানের শীষ’ নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দুইবারের সাবেক এই এমপির পক্ষে নেতা-কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠক করছেন। ভোটারদের মাঝে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোশারফ হোসেন বলেন, "সুষ্ঠু ভোট হলে এবার বিপুল ব্যবধানে ধানের শীষ জয়লাভ করবে। ভোটাররা গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ এবার মিটিয়ে নিতে চান।"

অন্যদিকে, জামায়াতের সমর্থনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির দিলশানা পারুল (শাপলা কলি) আলোচনায় রয়েছেন। জামায়াত তাদের নিজস্ব প্রার্থী প্রত্যাহার করে তাকে সমর্থন দেওয়ায় ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে প্রচারণার দৌড়ে তিনি বিএনপির চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছেন বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

প্রধান দুই প্রার্থীর বাইরেও আরও ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (এলডিপি), বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ (জাতীয় পার্টি - লাঙ্গল), শেখ শওকত হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ - ট্রাক), মোহাম্মদ ফারুক খান (ইসলামী আন্দোলন - হাতপাখা), ইসরাফিল হোসেন সাভারী (এনপিপি - আম), মো. কামরুল (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ - হারিকেন)
তবে প্রচারণার মাঠে এই প্রার্থীদের উপস্থিতি তেমন একটা চোখে পড়ছে না বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।

শিল্পাঞ্চল হওয়ার কারণে এই আসনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ভোটার হিসেবে বাস করেন। জামগড়া এলাকার পোশাক শ্রমিক আসমা আক্তার জানান, "আমাদের প্রধান সমস্যা রাস্তাঘাটের জলাবদ্ধতা।  এছাড়াও ডেন্ডাবর, পাথালিয়া এলাকার অংসখ্য জনগণ জানান যে, দীর্ঘ দিন যাবৎ গ্যাস সংকটের কোন নিরসন পাওয়া যাচ্ছে না, আমরা গ্যাস বিল দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু গ্যাস থাকে না এই বিষয়ে কোন রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। ভোটের পূর্বে  প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও পাস করার পর আর খবর রাখেন না। এবার যে কাজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে, তাকেই ভোট দেব।" তরুণ ভোটারদের মাঝেও ভোট দেওয়া নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

১২ তারিখের মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ভোটারদের মনে একটাই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন সাভার-আশুলিয়ার আগামীর অভিভাবক? নির্বাচনি পরিবেশ শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ থাকলে ঢাকা-১৯ আসনে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন