গাজীপুরে ৫ আসনে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর)
এ আসনে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। যথাযথ কাগজপত্র দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম এবং গণফ্রন্টের মো. আতিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুর-২
সবচেয়ে বেশি ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয় এ আসনে।
এক শতাংশ ভোটারের বৈধ সমর্থন না থাকায় মো. আতিকুল ইসলাম, খন্দকার রুহুল আমিন, জিত বড়ুয়া ও তাপসী তন্ময় চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়।
ফলকনামায় সঠিক তথ্য না থাকায় গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
যথাযথ হলফনামা দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির ইসরাফিল মিয়ার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ফলকনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের ঘাটতির কারণে শরিফুল ইসলামের এবং ফলকনামা সঠিকভাবে দাখিল না করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য করা হয়।
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর)
এ আসনে ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। কাগজপত্রে ত্রুটি ও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া)
এ আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়।
এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল্লাহর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
৩০০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা দাখিল না করা, স্বাক্ষরের ঘাটতি ও দলীয় অঙ্গীকারনামা না থাকায় আমজনতা দলের প্রার্থী মো. জাকির হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়।
একই কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. কাজিম উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এছাড়া আয়কর সংক্রান্ত আপত্তি ও ভোটারদের স্বাক্ষরের ঘাটতির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল হাসেমের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুর-৫
এ আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও যাচাই-বাছাই শেষে ২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
মনোনয়ন ফরম সঠিকভাবে পূরণ না করায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী ডা. শফিউদ্দিন সরকারের মনোনয়ন বাতিল হয়।
প্রস্তাবকারীর ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য ভুল থাকায় বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী গাজী রুহুল আমীন কাসেমীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
সব মিলিয়ে গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে একদিনেই ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় জেলার নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ফলে নির্বাচনে কেবল যোগ্য ও নিয়মতান্ত্রিক প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকবেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন,
“প্রার্থীরা লিখিতভাবে অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন। এটি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। কেউ অমান্য করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ প্রচারণা চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দৈএনকে/জে, আ