বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

নরসিংদীতে ১৫ দিনেই ভাঙল বীর প্রতীকের নামফলক

নরসিংদীতে ১৫ দিনেই ভাঙল বীর প্রতীকের নামফলক
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর নরসিংদীর পাঁচদোনায় ডাঙ্গা–ঘোড়াশাল–পাঁচদোনা সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ (নেভাল সিরাজ)-এর নামে। তবে উদ্বোধনের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় মহাসড়কের মাঝখানে স্থাপিত নামফলকটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। নামফলক ভাঙার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত সংস্কার বা পুনঃস্থাপনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

গত ৬ ডিসেম্বর পাঁচদোনা স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ (কে.জি) গুপ্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং নরসিংদী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সড়কটির নামফলক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। এছাড়া নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন ও পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের ঠিক মাঝখানে কোনো পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই নামফলক স্থাপন করায় এটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে ভাঙা হয়েছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একজন বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধার নামে সড়কের  স্থাপিত নামফলক এভাবে পড়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বীরদের প্রতি সম্মানের ঘাটতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি তার হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। 

উল্লেখ্য, বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ছুটিতে নরসিংদীতে অবস্থানকালে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ইপিআরের সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে বাগবাড়ি, পালবাড়ি ও পাঁচদোনা এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলেন। ছাত্র ও যুবকদের সংগঠিত করে নেহাবকে কেন্দ্র করে সড়কটির দুই পাশের জনপদে মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলেন তিনি। 

পাঁচদোনা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মুখোমুখি যুদ্ধ ও গেরিলা অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তাঁর অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের কারণে মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টর থেকে তাঁকে নরসিংদী, শিবপুর, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার—এই চার থানা নিয়ে গঠিত গেরিলা ইউনিটের কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ১৯৭২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আড়াইহাজার উপজেলার পুরিন্দা এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন