হামলার ১২ ঘণ্টায় ফয়সাল-আলমগীর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে, জনমনে ধোঁয়াশা

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত দুই সন্দেহভাজন, ফয়সাল ও আলমগীর, স্থলপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি, ফলে ঘটনায় জনমনে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার মাত্র বারো ঘণ্টার মধ্যেই ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান। সেখানে গারো সম্প্রদায়ের ফিলিপ স্নাল নামের এক মানবপাচারকারীর সহায়তায় তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হন। ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজনদের শনাক্ত, পাসপোর্ট ব্লক এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হলেও, তারা কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালাতে সক্ষম হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নালিতাবাড়ীর বারোমারি এলাকায় ফিলিপ স্নালের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তার স্ত্রী ডেলটা চিরান, শ্বশুড় ইয়ারসন রংডি ও মানবপাচারকারী লুইস লেংমিঞ্জাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত ফিলিপ স্নালকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনিও অভিযুক্তদের সঙ্গে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, সর্বশেষ সোমবার সকালে আরেক মানবপাচারকারী বেঞ্জামিন চিরামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সীমান্তবর্তী ভুটিয়াপাড়া এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে মানবপাচারকারী ও চোরাকারবারি চক্র মোটরসাইকেলে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়। এই পথ ব্যবহার করে ভারতীয় মদ, জিরা, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়। সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি কম থাকলেই এসব কার্যক্রম বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুটিয়াপাড়ার বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেছেন, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মদদ রয়েছে। তাদের দাবি, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিএসএফ সদস্যরা চোরাকারবারি ও মানবপাচারকারীদের সীমান্ত পারাপারে সহযোগিতা করছে।