বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

শেরপুরে ২৩টি সৌরচালিত পাতকুয়া পরিত্যক্ত

শেরপুরে ২৩টি সৌরচালিত পাতকুয়া পরিত্যক্ত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

শেরপুরে কৃষি সেচের জন্য স্থাপিত বিএডিসির সৌরচালিত পাতকুয়া বা ডিপ টিউবওয়েল বর্তমানে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। নির্মাণের পর প্রথমদিকে এসব পাতকুয়া শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সংকট দূর করতে সহায়তা করলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এখন আর কার্যকর নেই। অনেক স্থানে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, এগুলো দ্রুত সংস্কার করা গেলে আবারও উপকৃত হবেন প্রান্তিক কৃষকরা।

জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যাওয়া ও নদ-নদীর পানি কমে যাওয়ায় সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের সেচে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় সৌরচালিত পাতকুয়া স্থাপন করা হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাতকুয়া থেকে পানি তুলে কৃষকদের জমিতে সেচ দেওয়া হতো।

প্রতিটি পাতকুয়া থেকে ৪১ জন কৃষক শুষ্ক মৌসুমে বিনা খরচে ধান ও সবজি চাষে সেচ সুবিধা পেতেন। ১১৮ ফুট গভীর এসব পাতকুয়া চালাতে বসানো হয়েছিল তিন হাজার ওয়াট ক্ষমতার বিশেষ সোলার প্যানেল। তবে স্থাপনের অল্পদিন পর যান্ত্রিক ত্রুটিতে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাতকুয়াগুলো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে কয়েক কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ কার্যত ভেস্তে যায়। কৃষকদের দাবি, সরকারি সহযোগিতায় এগুলো পুনরায় চালু করা হলে আবারও সেচ সুবিধা ফিরে পাবে তারা।

স্থানীয় কৃষক মো. কালাম মিয়া বলেন, “পাতকুয়া চালু থাকার সময় আমরা বিনা খরচে জমিতে পানি দিতে পারতাম। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটি আর ব্যবহার করতে পারিনি। পরে যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে যায়। এখন যদি সরকার এগুলো মেরামত করে দেয়, তাহলে আমরা আবারও বিনা খরচে সেচ সুবিধা পেতাম।

আরেক কৃষক মোফাজ্জল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শুধুমাত্র দেখভালের অভাবে সরকারের প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা নষ্ট হয়েছে। শুরু থেকেই যদি তদারকি হতো, তাহলে আজ আমরা সেচ সংকটে পড়তাম না। প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার জন্য দ্রুত এগুলো মেরামত জরুরি।

বিষয়টি নিয়ে বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শামীমা নাছরিন কনার সঙ্গে কথা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, “এটি আমাদের অধিক্ষেত্রে নেই। এই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

জেলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, “সৌরচালিত পাতকুয়াগুলো কৃষকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলো অকেজো হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা গেলে প্রান্তিক কৃষকরা সুবিধা পাবেন এবং ওই অঞ্চলে কৃষি আবাদও বৃদ্ধি পাবে।

২০১৬-১৭ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের তত্ত্বাবধানে শেরপুরে ২৩টি সৌরচালিত পাতকুয়া নির্মাণে ব্যয় হয় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন