বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

ভারতের কারাগার থেকে ১৩ মাস পর দেশে ফিরলেন ছয় মৎস্যজীবী

ভারতের কারাগার থেকে ১৩ মাস পর দেশে ফিরলেন ছয় মৎস্যজীবী
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ভারতের কারাগারে ১৩ মাস আটক থাকার পর দেশে ফিরেছেন কুড়িগ্রামের ছয় মৎস্যজীবী। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে তারা দেশে প্রবেশ করেন।

ফেরতের হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে ঘিরে নাকুগাঁও সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিজিবি ৩৯ ব্যাটালিয়নের কোয়ার্টারমাস্টার মিজানুর রহমান, নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানসহ বিজিবির হাতিপাগার বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার ও অন্যান্য সদস্যরা। ভারতীয় পক্ষের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের তুরা ক্যাম্পের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডার সাখাওয়াত হোসেন।

কারামুক্ত ফেরত আসা মৎস্যজীবীরা হলেন কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার পূর্ব মুদাখানা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. রাসেল (৩৫), একই উপজেলার ব্যাপারীপাড়া গ্রামের বাহাদুরের ছেলে বিপ্লব মিয়া (৪৫), নতুন ব্যাপারীপাড়া গ্রামের ইছাহাক আলীর দুই ছেলে মীর জাহান (৪৫) ও বকুল মিয়া (৩২), ব্যাপারীপাড়া গ্রামের ফকির আলীর ছেলে আমের আলী (৩৫) এবং রৌমারী উপজেলার বকবাদা ব্যাপারীপাড়া গ্রামের ছলিম উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে চাঁন মিয়া (৬০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা গত বছরের ৩ নভেম্বর মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন এবং এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

গত ৪ নভেম্বর ২০২৪ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে ভারতের জলসীমায় প্রবেশ করলে ভারতীয় কোস্টগার্ড তাদের অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক করে। এরপর দীর্ঘ ১৩ মাস ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা কারাগারে বন্দি থাকার পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা মুক্তি পান।

জেলেরা নাকুগাঁও স্থলবন্দরে পৌঁছালে স্বজনদের আনন্দ আবেগে কান্নার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

বকুল মিয়ার স্ত্রী আজেদা বেগম বলেন,
প্রায় এক বছর ধরে পথের ধারে বসে থেকেছি। স্বামী বেঁচে আছে কি না সেই দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম চলে যেত। আজ তাকে সামনে দেখে চোখের জল থামাতে পারছি না।

মীর জাহান আলীর স্ত্রী মোছা. ববিতা বেগম বলেন, স্বামী ছাড়া আমাদের জীবন অন্ধকারে ডুবে ছিল। প্রতিটি দিন কাটত ভয় আর অশান্তিতে। আজ সে ফিরে এসেছে, এই সুখ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, জেলেদের উদ্ধারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার এবং কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ছয় মৎস্যজীবীকে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন