বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • দেবীগঞ্জে চায়না ও দেশি জাতের মিশ্রণে কমলা চাষে বিপ্লব

    দেবীগঞ্জে চায়না ও দেশি জাতের মিশ্রণে কমলা চাষে বিপ্লব
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কয়েক বছর আগেও  কমলার গাছ চিনতেন না অনেকেই। কমলা ফল মানেই যেন বিদেশি ফল। এখন সেই কমলা চাষ হচ্ছে দেশেই। কমলা চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষি উদ্যোক্তা। তেমনি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকা সুতপাড়া গ্রামে কমলা চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তাফিজুর রহমান। নিজ ও পার্শ্ববর্তী গ্রামে পৈতৃক প্রায় তিন বিঘা জমিতে তাঁর বাগানে রয়েছে প্রায় চার শতাধিক কমলা গাছ।

    দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের তেরপুপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ‘আবরার অরেঞ্জ গার্ডেনে’ গিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্বল্প দাম, নিজ হাতে গাছ থেকে সতেজ কমলা সংগ্রহ ও ছবি তোলার আকর্ষণেই তাদের এমন উচ্ছ্বাস। প্রতিদিনই মানুষজন এসে গাছ থেকে সতেজ কমলা তুলে কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

    দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম রকি জানান, “এখানকার কমলা বিদেশি কমলার মতোই স্বাদ লাগে, দামও তুলনামূলক কম তাই এখানে এসে ভালোই লাগছে।”

    বাগানের তত্বাবধায়ক দ্বিজেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “আমি নিয়মিত বাগানের যত্ন নিই। নভেম্বরের শেষ দিকে কমলা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, এখন চলছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছে- এটা দেখে ভালোই লাগে।”

    বাগান মালিক ও পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। কৃষি শিক্ষা বই থেকেই কমলা চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে কমলা গাছের চারা রোপন করি। ফলন ভালো হওয়ায় পরে সহোদরদের নিয়ে প্রায় ১শ শতক জমিতে চাষ শুরু করি। আমার বাগানের কমলার জাতটি  চায়না ও দেশির মিশ্রণ। এ অঞ্চলের বেলে-দোআশ মাটি ও আবহাওয়া দার্জিলিং-হিমালয়ের সাথে কিছুটা মিল থাকায় কমলা চাষ এখানে ভালোই হচ্ছে।”

    তিনি নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, “কমলা এখন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভিটামিন - সি এর চাহিদা মেটাচ্ছে। ইদানীং কমলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগ্রহী কৃষকদের গাছের চারা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত।

    কমলা চাষের এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ বলেন, “এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কমলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে এখানকার চাষিরা আরও উন্নত ফলন পাবেন এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারবেন। আমরা চাই কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে যুক্ত হোক, যাতে তাঁদের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি পায়। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে উপজেলা কৃষি বিভাগ সর্বদা প্রস্তুত।”


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন