বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

সকালের ক্লান্তি কি নিত্যসঙ্গী? জেনে নিন কারণ ও কার্যকর সমাধান

সকালের ক্লান্তি কি নিত্যসঙ্গী? জেনে নিন কারণ ও কার্যকর সমাধান
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

অনেকেই আছেন যাদের দিনের শুরুটা ভালো কাটে না—ঘুম থেকে উঠেই শরীর ভেঙে পড়ার অনুভূতি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, এমনকি দুপুরের আগেই চোখে ঘুম ভর করে। এই অবস্থা শুধু শারীরিক সক্ষমতাই কমিয়ে দেয় না, বরং সারাদিনের মনোযোগ, কর্মক্ষমতা ও মুডেও প্রভাব ফেলে।

সকালে ঘুম ভাঙার পর এই ক্লান্তির কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. পাল মনিক্কম। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি জানান—নিয়ম না মেনে ঘুমানোই এই সমস্যার প্রধান কারণ।

তার মতে, অনিয়মিত ঘুমের রুটিন, ভুল সময়ে রাতের খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত আলো বা শব্দযুক্ত পরিবেশে ঘুমানোর চেষ্টা—এগুলোই সকালে অস্বাভাবিক দুর্বলতার মূল কারণ।

তিনি আরও বলেন, কয়েকটি সহজ অভ্যাস বদলালেই ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়, ফলে সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই শরীর ফিরে পায় স্বাভাবিক শক্তি, সতেজতা ও চাঙ্গাভাব।

ফিক্সড স্লিপ সাইকেল:
ডা. মনিক্কমের মতে, ঘুম ঠিক রাখার জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে ফিক্সড স্লিপ সাইকেল। প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময় ঘুম থেকে উঠা শরীরের সার্কাডিয়ান রিদমকে স্থিতিশীল রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন, টিভি বা স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত। নীল আলো মেলাটোনিন হ্রাস করে, ফলে ঘুম গভীর হয় না। ঘুমানোর ২০-৩০ মিনিট আগে যদি নরম আলো, বই পড়া বা গরম পানি গোসল করার মতো অভ্যাস মেনে চলা যায়, তাহলে শরীর ভালো ঘুমের জন্য তৈরি থাকে।

আলো নিয়ন্ত্রণ:
এ চিকিৎসক জানিয়েছেন, রাতে ভালো ঘুমের ক্ষেত্রে আরেকটি উপায় হচ্ছে আলো নিয়ন্ত্রণ। অধিক আলো যেমন শরীরকে ভুল সংকেত প্রদান করে, দিন এখনো শেষ হয়নি। এ জন্য ঘর অন্ধকার রাখতে পারেন। আর ব্ল্যাকআউট কারটেইনস এ ক্ষেত্রে খুবই কাজের। এতে বাইরের গাড়ির আলো, স্ট্রিটলাইট বা ভোরের সূর্যালোক ঘরে প্রবেশ করতে পারে না। অন্ধকার পরিবেশ মেলাটোনিন নিঃসরণ বৃদ্ধি করে এবং ঘুম আরও গভীর করে। এতে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর মাথা ভারী অনুভব হয় না।

তাপমাত্রা ঠিক না রাখা:
ঘুম না হওয়ার পেছনে আরও একটি প্রধান কারণ হচ্ছে তাপমাত্রা ঠিক না রাখা। ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ঠান্ডা হয়। এতে ঘরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম রাখা গেলে অল্প সময়ের মধ্যে ঘুম আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৮ থেকে ১৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ঘুমের জন্য আদর্শ। অধিক গরম ঘুমের ছন্দ ভেঙে দেয় এবং ঘুমানোর পর বারবার জাগিয়ে দেয়। এ কারণে সকালে ক্লান্তি বেড়ে যায়।

ঘুমের পরিবেশ:
ঘুমের পরিবেশ মনকে সংকেত দিয়ে থাকে। যা খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিছানায় শুধু ঘুমের জায়গা, এটি মনস্তাত্ত্বিক হলেও খুবই কার্যকর। বিছানায় বসে যদি ফোন ঘাটাঘাটি, সিরিজ দেখা, খাবার খাওয়াসহ অন্যান্য কাজ করা হয়, তাহলে মস্তিষ্ক বিছানাকে ঘুমের জায়গা ভাবতে ভুলে যায়। এ কারণে বিছানায় শোয়ার পর সহজে আর ঘুম আসতে চায় না।

রাতে দেরিতে খাওয়া:
রাতের খাবার দেরিতে খাওয়াও অনেক বড় সমস্যা। রাতে দেরি করে খাবার খাওয়া হলে তা ঠিকমত হজম হওয়ার আগেই ঘুমাতে গেলে অ্যাসিডিটি, অম্বল বা গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়। ফলে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা ঘুম গভীর হয় না। 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন