বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

শেরপুরের পাহাড়ে পিঁপড়ার ডিম: কারও জীবিকা, কারও বাণিজ্য

শেরপুরের পাহাড়ে পিঁপড়ার ডিম: কারও জীবিকা, কারও বাণিজ্য
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অন্তত তিন শতাধিক নিম্ন আয়ের পরিবার। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়জুড়ে এই ডিম সংগ্রহের ধুম পড়ে। তবে নির্বিচারে আহরণ স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করেছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার বাঁকাকুড়া, গজনী, নয়ারাংটিয়া, বউবাজার ও বটতলা গ্রামে বিকেল নামলেই বসে পিঁপড়ার ডিমের হাট। ছোট-বড় ঝুড়িতে সাজানো এসব ডিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। পাহাড়ি ও উপজাতি তরুণরা এখন এ পেশায় বেশি ঝুঁকছেন।

একজন ডিম সংগ্রাহক বলেন, গরিব মানুষ, কাজকাম নাই। সকাল ৭–৮টার দিকে পাহাড়ে যাই, সন্ধ্যায় ফিরি। দিনে ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ডিম পাওয়া যায়। হাতির ভয়, পিঁপড়ার কামড়—সব সহ্য করেই কাজ করি।

এদিকে স্থানীয় পাইকাররা জানান, এসব ডিম ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বক্সিং করে পাঠানো হয়।

একজন পাইকার বলেন, পাইকারি ১০০–১৫০ টাকা কমে কিনি। সব খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ থাকে। এখন এই ব্যবসাই আমাদের মূল আয়ের উৎস।

এভাবে সংগ্রাহক, খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি ক্ষুদ্র বাণিজ্যচক্র, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রবাহ তৈরি করেছে। তবে পরিবেশবিদদের মতে, ধারাবাহিক ও বেপরোয়া আহরণ প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

পরিবেশবিদ মুগিনুর রহমান মনি বলেন, “পিঁপড়া খাদ্যজালের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্বিচারে ডিম সংগ্রহের ফলে পিঁপড়ার সংখ্যা কমছে। এতে অনেক প্রাণীর খাদ্য সংকট দেখা দেবে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, বাণিজ্যিকভাবে পিঁপড়ার ডিম আহরণ করলে বনাঞ্চলে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। বিষয়টি নজরদারিতে আছে। কেউ অতিরিক্ত আহরণ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন