একজন সুমনের সাফল্যে গর্বিত ভেদরগঞ্জ – সহকারী অধ্যাপক হলেন ডাঃ শফিকুল ইসলাম সুমন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়ন আজ গর্বে উজ্জ্বল—কারণ এলাকার কৃতিসন্তান ডাঃ শফিকুল ইসলাম সুমন পেয়েছেন সহকারী অধ্যাপক (পেডিয়াট্রিক্স) পদে পদোন্নতি।
ইকরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট্ট শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া সুমনের শিক্ষা-যাত্রা আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকদের তালিকায় তাঁর নামটি শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ও কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি—তারপর নটর ডেম কলেজ পেরিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে তিনি চিকিৎসা শিক্ষায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন।
২০১৪ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদানের পর থেকেই তাঁর দায়িত্বশীলতা, সততা ও মানবিকতা তাঁকে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও বর্তমানে জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে দায়িত্বরত থাকা পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় তিনি রেখে গেছেন অমিট ছাপ।
অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষায় উৎসাহ প্রদান, এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ব্যবহারের কারণে তিনি আজ সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক।
পিতার মানবিক আদর্শ ধারণ করে তিনি চিকিৎসাকে শুধু পেশা নয়—বরং সেবা হিসেবে নিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের Royal College of Paediatrics-এর MRCPCH (UK) Part-2 পরীক্ষার প্রার্থী, যা তাঁর আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে।
পারিবারিক জীবনেও তিনি অনুপ্রেরণা। দুই কন্যার গর্বিত পিতা ডাঃ সুমনের সহধর্মিণী সহকারী অধ্যাপক ডাঃ ফারজানা, একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে ভেদরগঞ্জসহ দেশের মানুষের জন্য মানবিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
ডাঃ শফিকুল ইসলাম সুমনের এই অর্জনে ভেদরগঞ্জের মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হৃদয়ের গভীর থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তাদের বিশ্বাস—একদিন তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে শুধু ভেদরঞ্জ নয়, পুরো শরীয়তপুর তথা বাংলাদেশের নাম বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল করবেন।
একজন সুমন প্রমাণ করে দিয়েছেন—মনোযোগ, মানবিকতা ও অধ্যবসায় থাকলে পিছিয়ে থাকা গ্রাম থেকেও বিশ্বমানের চিকিৎসক হয়ে ওঠা সম্ভব।
তাঁর সাফল্য নতুন প্রজন্মের জন্য এক আলোকবর্তিকা।