বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, ৪ শিক্ষার্থী গ্রেফতার

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, ৪ শিক্ষার্থী গ্রেফতার
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ঢাকার আশুলিয়ায় অবস্থিত বেসরকারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী চাঞ্চল্যকর দলবদ্ধ ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়েরই চার শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি  উপস্থিত সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আশুলিয়ার ফুলেরটেক ও বাইশমাইল সহ বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। প্রায় ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ অভিযানে চার অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার ভূইয়া (২২), তাজুল ইসলাম তাজ (২০), শ্রাবন সাহা উৎস (২১) এবং একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) শিক্ষার্থী অন্তু দেওয়ান (২৪)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল সকালের দিকে আসামিরা পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায়। পথিমধ্যে কোমল পানীয় ‘মজো’র সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাকে সেবন করানো হয়। বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে ভুক্তভোগী নিজেকে আসামিদের ফুলেরটেকের একটি মেস-রুমে আবিষ্কার করেন। তিনি বুঝতে পারেন, এই সময়ের মধ্যে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপরই শুরু হয় অমানবিক ব্ল্যাকমেইল ও শোষণ। ডাক-চিৎকার শুরু করলে আসামিরা ধর্ষণের ভিডিও ও অশ্লীল স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার ভয়াবহ হুমকি দেয়। ঘটনার পর থেকে আসামিরা ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে রাখে এবং বিভিন্ন সময়ে ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। গত ৪ নভেম্বর অভিযুক্তরা পুনরায় শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর ভুক্তভোগী রাজি না হওয়ায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড় মারা হয়। এসময় আবারও একটি বোতলে থাকা বিষাক্ত নেশাজাতীয় পানীয় তাকে জোরপূর্বক পান করানো হয়। নেশাজাতীয় পানীয় গ্রহণের পর গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় ভুক্তভোগী কোনোমতে ক্যাম্পাসে পৌঁছালে সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাকে দ্রুত গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।

ভুক্তভোগীর স্বজনেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জানালে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। চিকিৎসা শেষে গত ২৬ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একাডেমিক কক্ষে গেলে আসামিরা দরজা বন্ধ করে তাকে আটকে রাখে এবং অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় অবশেষে ভুক্তভোগী ২ ডিসেম্বর আশুলিয়া থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান নিশ্চিত করেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার, তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন