বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

পেটেও হতে পারে মাইগ্রেন

পেটেও হতে পারে মাইগ্রেন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আমরা সাধারণত মাইগ্রেনকে মাথার তীব্র ব্যথা হিসেবে মনে করি। তবে এমন একটি ধরনের মাইগ্রেনও আছে যা মাথায় নয়, পেটে হয়—এটিকে বলা হয় অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেন। এটি হলে নাভির চারপাশে ব্যথা, বমি ভাব, গা ঘোরানো এবং অপ্রয়োজনীয় ক্লান্তি দেখা দেয়।
অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেন শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণ পেটের ব্যথা ভেবে অনেকেই এটিকে উপেক্ষা করেন, যা দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেন কী?

অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেন হল একটি স্নায়বিক সমস্যা, যা মাথা ব্যথা নয়, পেটে তীব্র যন্ত্রণার কারণ হয়। পেটে ব্যথা হওয়ায় অনেকেই ভেবে ফেলেন এটি হজম বা পরিপাকের সমস্যা, কিন্তু এটি মাইগ্রেনেরই একটি রূপ।

স্নায়ুতন্ত্রে কিছু রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে পেটে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
পেটের রক্তনালিগুলো সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হওয়ায় নাভির চারপাশে ব্যথা শুরু হয়।
সঙ্গে দেখা দিতে পারে পেট ফাঁপা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি ভাব ও গা ঘোরানো।
মাথায় সাধারণত কোনো ব্যথা হয় না।
অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং এটি বারবার ফিরে আসে।
চিকিৎসা ও প্রতিকার

যদি পেটে ব্যথা ৭২ ঘণ্টা বা তার বেশি স্থায়ী হয়, নাভির চারপাশে তীব্র ব্যথা এবং বমি ভাব দেখা দেয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ও বমিরোধক ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
কখনো কখনো ট্রিপটানস জাতীয় বিশেষ মাইগ্রেনের ওষুধ কার্যকর হতে পারে।
অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেনের কারণ
সাধারণত বংশগত কারণে বেশি দেখা যায়।
পরিবারের কেউ এই সমস্যা থাকলে পরবর্তী প্রজন্মও আক্রান্ত হতে পারে।
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মাইগ্রেন হতে পারে।

সতর্ক থাকার পরামর্শ

বাইরের খাবার কম খাওয়া এবং ক্যাফেইন সীমিত পরিমাণে নেওয়া।
নিয়মিত শরীরচর্চা, যোগাসন ও মেডিটেশন মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
চকলেট, পনির, প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ক্যাফেইনযুক্ত খাবার ব্যথা বাড়ায়, তাই এড়িয়ে চলা।
মানসিক চাপ কমাতে মাইন্ডফুলনেস বা মেডিটেশন করতে পারেন।
 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন