স্বাস্থ্যকর খাবারেও লুকিয়ে আছে হার্টের ঝুঁকি

স্বাস্থ্যকর বলে পরিচিত অনেক খাবারে হার্টের জন্য অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি লুকিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে যারা হৃদরোগের কারণে ওষুধ গ্রহণ করছেন বা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এসব খাবার আরও বিপজ্জনক হতে পারে।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি ইয়ারানোভ সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কিছু খাবার যা সাধারণত স্বাস্থ্যকর বলে ধরা হয়, তা আসলে হৃদপিণ্ডের ক্ষতি করতে পারে। কারণ আমাদের হার্ট, কিডনি এবং বিভিন্ন ওষুধ শরীরের লবণ, পটাসিয়াম এবং বিপাক নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ঘটায়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা খাবারও হৃদরোগীদের জন্য সাবধানতার সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো খাবার নির্বাচন করা সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
কিছু খাবারকে সাধারণত স্বাস্থ্যকর মনে করা হলেও, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে তা হার্টের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই ধরনের কিছু খাবার নিচে উল্লেখ করা হলো:
কলা: কলা পটাশিয়ামের একটি excelente উৎস। তবে, যাদের কিডনির সমস্যা আছে বা যারা হৃদরোগের নির্দিষ্ট ওষুধ (যেমন: রক্ত পাতলা করার ওষুধ) খান, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পটাশিয়াম গ্রহণ হার্টের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্য কলা সতর্কতার সঙ্গে খাওয়া উচিত।
পালং শাক: পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন K থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান (যেমন ওয়ারফারিন), তাদের জন্য পালং শাক বা অন্যান্য গাঢ় সবুজ শাকসবজি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
ডাবের পানি: এতে উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম থাকতে পারে। যদিও পটাশিয়াম উপকারী, তবে কিডনি রোগ বা হার্টের নির্দিষ্ট অবস্থায় অতিরিক্ত ডাবের জল ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
সয়া সস: সয়া সস খাবারের স্বাদ বাড়ালেও এতে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম বা লবণ থাকে। অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
নারকেল তেল/দুধ: নারকেলকে উদ্ভিদ-ভিত্তিক পণ্য হিসাবে স্বাস্থ্যকর মনে করা হলেও, এতে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট (saturated fat) থাকে। স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা ধমনীতে ব্লক সৃষ্টি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ফ্লেভারড ইয়োগার্ট (স্বাদযুক্ত দই): প্লেইন বা সাধারণ দই হার্টের জন্য ভালো হলেও, বাজার থেকে কেনা অনেক ফ্লেভারড বা মিষ্টি দইয়ে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে। অতিরিক্ত চিনি স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ক্যানড স্যুপ : যদিও স্যুপে সবজি থাকতে পারে, তবে টিনজাত স্যুপে প্রায়শই প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে হার্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
আঁশযুক্ত ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল: কিছু সিরিয়ালকে স্বাস্থ্যকর হিসেবে বাজারজাত করা হলেও, এতে অতিরিক্ত চিনি এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মূল বিষয় হলো, কোনো খাবারই নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়, বরং পরিমাণ এবং প্রস্তুত প্রণালী হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত যদি কোনো ব্যক্তির পূর্ব-বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা হৃদরোগের ওষুধ থাকে, তবে তাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।