বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • চায়না জাল দিয়ে মাছ নিধন: হারাতে বসেছে নদীর ঐতিহ্য-জীববৈচিত্র

    চায়না জাল দিয়ে মাছ নিধন: হারাতে বসেছে নদীর ঐতিহ্য-জীববৈচিত্র
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ৩ নদীতে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ ও অবৈধ চায়না দোয়ারি জাল দিয়ে মাছ নিধন। এ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহমান যমুনা, ঝিনাই ও সুবর্ণখালী নদী গুলোতে অবাধে দিনে ও রাতে চলছে চায়না দোয়ারি জালের ব্যবহার।

    এছাড়াও নদী গুলোর বিভিন্ন স্থানে রাতের আধারে ইলেক্ট্রিক বা কারেন্ট শর্ক দিয়ে ধরা হচ্ছে ছোট-বড় মাছ। ফলে হুমকির মুখে হারাতে বসেছে নদীর ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র। দ্রুত নদীর মাছ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় এসকল অবৈধ ফাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী সচেতন মহলের। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার মধ্য দিয়ে বহমান যমুনা, ঝিনাই ও সুবর্ণখালী নদী গুলোতে অবৈধ ও নিষিদ্ধ চায়না দোয়ারিসহ বিভিন্ন জালদিয়ে অবাদে চলছে মাছ নিধন। প্রকাশ্যে দিনের আলোয় এমন অবৈধ উপায়ে মাছ নিধন করলেও দেখার কেউ নেই। প্রশাসন ও মৎস অফিসের তদারকি ও সচেতনতার অভাবে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র প্রতিদিন হাজার হাজার চায়না বিভিন্ন জালের ফাঁদ পেতে ধরছে সকল প্রজাতির ছোট-বড় মাছ। এসব জালের প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ফুট হয়ে থাকে। এদিকে নদী গুলোতে রাতের আধারে ইলেক্ট্রিক শর্ক দিয়ে ধরা হচ্ছে মাছ। 

    নৌকায় করে বিশেষ পদ্ধতিতে বানানো ইলেক্ট্রিক শকদেয়া বড় বড় ব্যাটারি ও লোহার রড নিয়ে মাঝ নদীতে মাছ ধরতে চলে যায় অসাধু মাছ শিকারীরা। নদীর তীর গুলোতে গিয়ে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে নদীর বুক জুড়ে হাজার হাজার বাঁশের খুঁটি। প্রতিটা খুঁটি যেন একেকটা চায়না জালের ফাঁদ। যার কবলে পড়ে নদী মাছশূন্য হয়ে পড়ছে। হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র। আবার এসব চায়না জালে মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া, শামুক, উপকারী পোকাসহ অধিকাংশ জলজ প্রাণীই আটকা পড়ছে। ফলে নদীতে মাছ শূন্যতার পাশাপাশি জলজ প্রাণীও শূন্য হচ্ছে। 

    প্রতিদিন বিকেলে ও সকালে এসব চায়না জাল নদীর পানিতে খুটির সাথে বেধে রাখা হয়। পরদিন ভোরে এসব জাল তুলে মাছ নিয়ে আবার সেগুলো নদীর পাড়েই রোদে শুকাতে দেয়া হয়। 

    বিভিন্ন স্থানের একাধিক স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নদীতে নতুন পানির আগমনের সাথে সাথেই পানিতে জন্ম নেয় মাছের রেণু। একটি চক্র নদী থেকে এসব রেনু নিধন করে তা বাজারে বিক্রি করছে। এমনকি মাছের ছোট ছোট বাচ্চা তুলেও বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছে এই চক্র। রাতদিন নদীতে নৌকা ও রেনু নিধনের জাল নিয়ে অবাধে চলাফেরা করছে। স্থানীয়দের মতে, এই চায়না বিভিন্ন জাল নিধন না করা হলে ভবিষ্যতে নদীতে পানি ছাড়া আর কিছু থাকবে না। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত তিনটি নদীতে চায়না জালের ফাঁদ পেতে নিয়মবহির্ভূত ভাবে অবাধে মাছ নিধন করা হচ্ছে। এবং নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যেতে হবে। তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম আমিষের চাহিদা পূরণে ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও ধারনা তাদের। 

    এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবযানী ভৌমিক বলেন, চায়না জাল গুলো খুবই মারাত্মক একটি জাল। এটাতে ছোট বড় মাছ ও রেনু পর্যন্ত ধরা পড়ে। যা নদী গুলোর জন্য হুমকি। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি এইসব অবৈধ চায়না জাল বন্ধ করতে। ইতিমধ্যে আমরা নদীর একাধিক স্থানে ও জালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান ও মোবাইল কোর্ডও পরিচালনা করেছি। অনেক জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন