আওয়ামী লীগের ৫ নেতা আটক

সাভারের আশুলিয়ার অভিজাত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্র জনতা হত্যা মামলার ৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী।
এসময় তাদের নিকট থেকে ভারতীয় ভিসা লাগানো পাসপোর্টসহ নগদ টাকা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এরা সকলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ধামরাই উপজেলার ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদদাতা ও হত্যা মামলার আসামি।
মঙ্গলবার(৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: মনিরুল ইসলাম।
গত ৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর সেনা অধ্যাসিত আবাসিক এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- ধামরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোহাদ্দেস হোসেন (৫৬), ইউপি চেয়াম্যান মো. মশিউর রহমান (৪২), আওয়ামী লীগ কর্মী ছানোয়ার হোসেন (৪৫), আহাদ হোসেন (৩২) এবং আমিনুল ইসলাম (৩৮)।
আটক ধামরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোহাদ্দেস হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আফিকুল ইসলাম সাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী জানতে পারেন ধামরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাদ্দেস হোসেন তার লোকজন নিয়ে নবীনগর এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। পরে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর টহল দল তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে মোহাদ্দেস সহ মোট পাঁচজনকে আটক করে। আটককৃত সবাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিহত ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামী।
এসময় তাদের কাছ থেকে ৮টি মোবাইল ফোন, একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, একটি খালি সিরিঞ্জ ও দুই পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নগদ ১৩ হাজার ৭৩৫ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদেরকে ধামরাই ধানায় হস্তান্তর করা হয়েছ।
থানায় হস্তান্তরে বিষয়টি নিশ্চিত করে ধামরাই থানার ডিউটি অফিসার মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, আশুলিয়া থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ধামরাইয়ের হার্ডিঞ্জ সরকারি স্কুল ও কলেজ গেটের সামনে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজছাত্র আফিকুল ইসলাম সাদ (১৮) মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর ৮ আগস্ট সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত সাদের নানা আজিম উদ্দিন বাদী হয়ে গত ২১ আগস্ট ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৮২ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আরও ৮০-৯০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। গ্রেপ্তাররা এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মামলার পর থেকে তারা পলাতক ছিলেন।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কলেজছাত্র আফিকুল ইসলাম সাদ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকালেই তাদের আদালতে পাঠানো হয়।