শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ক্ষমতা হস্তান্তরে স্বচ্ছতা ছিল না, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুললেন বিরোধীদলীয় নেতা এপ্রিল-মে মাসে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা নেই, পর্যাপ্ত মজুতের দাবি প্রতিমন্ত্রীর জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে জাতীয় কমিটির বৈঠক শনিবার সন্ধ্যায় শরিফুলের আঘাতে শুরুতেই ধাক্কা, নিউজিল্যান্ডের ওপেনিং জুটি ভাঙল রাজধানীর জোয়ারসাহারায় চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট মতভেদ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, জাতীয় ঐক্যে জোর প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা পুরস্কার দিতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান জিরো এমিশন ইস্যুতে বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী লো-ফিডে উৎপাদন অব্যাহত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে
  • কটিয়াদীতে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা

    কটিয়াদীতে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কালের পরিক্রমায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার এককালের জনপ্রিয় ঐতিহ্য — লাঠি খেলা। একসময় এই খেলা ছিল পাড়া-মহল্লা ও গ্রামীণ জীবনের প্রিয় বিনোদন। ঢাক-ঢোলের শব্দে মাঠে মাঠে, বাড়ির আঙিনায় গমগম করতো মানুষের ভিড়। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক জীবনে জায়গা করে নিচ্ছে মোবাইল গেমস ও টিভি — আর হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের শিকড়ের খেলা।

    একসময় গ্রামের দলনেতাদের উদ্যোগে গড়ে উঠত লাঠি খেলার দল। প্রতিযোগিতা হতো গ্রাম থেকে গ্রামে। শিশু, যুবক, বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষ এই খেলা দেখত প্রবল আগ্রহে। কেউ দেখতো বাড়ির চাল থেকে, কেউ জানালা খুলে, কেউবা পিড়ি পেতে বসে। এখন সেই মাঠগুলো শুনসান, আর লাঠিগুলো হয়তো কোন আড়ার কোণে পড়ে ধুলোমাখা।

    আজ আর নতুন কোনো লাঠি খেলোয়াড় দলের জন্ম হচ্ছে না। গ্রামীণ খেলাধুলার জায়গা দখল করেছে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, এমনকি অনলাইনভিত্তিক গেম পাপজি বা ফ্রি ফায়ার। তবে এখনো দুই-একটি জায়গায়, স্মৃতির টানে, ঐতিহ্য ধরে রাখতে দেখা যায় লাঠি খেলার আয়োজন।

    মসুয়া গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, “আমার দাদা-বাবা দুজনেই ছিলেন লাঠি খেলোয়াড়। বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতে আমি নিজেই লাঠি খেলার আয়োজন করেছি।”

    ৮১ বছর বয়সী চরপুক্ষিয়ার আলীম উদ্দিন অতীত স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আগে লাঠি খেলা মানেই হইচই, মানুষে গিজগিজ করতো। এখনকার পোলাপান আর লাঠি চেনে না। ওরা মোবাইলের স্ক্রিনেই খেলা দেখে।”

    লাঠি খেলার কাঠামোও ছিল আকর্ষণীয়। প্রাকৃতিক তালে তালে ঢোল, কনেট, বাঁশি আর ঝুনঝুনির সঙ্গে খেলা চলত। তেল মাখানো চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা লাঠি ঘোরাতে ঘোরাতে খেলোয়াড়রা দেখাতেন রণকৌশল। খেলার সঙ্গে থাকত চুড়ি নৃত্য ও লোকগান।

    এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রয়োজন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো যদি এগিয়ে আসে, তবে হয়তো এই খেলা আবার প্রাণ ফিরে পেতে পারে।


    নতুন/কাগজ/ছিদ্দিক/কটিয়াদী/কিশোরগঞ্জ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন