সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

জ্বালানি স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ জাহাজে পৌনে ৪ লাখ টন তেল-গ্যাস

জ্বালানি স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ জাহাজে পৌনে ৪ লাখ টন তেল-গ্যাস
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে তেল-গ্যাসের ১০টি জাহাজ। রোববার (৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত জ্বালানিবাহী আটটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে। এর পাশাপাশি দুইটি জাহাজ প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে পথে রয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) এ দুটি জাহাজও চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। সব মিলিয়ে এই ১০টি জাহাজে পৌনে ৪ লাখ টন তেল-গ্যাস রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের আগে পারস্য উপসাগরের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব জাহাজ বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। বন্দরে পৌঁছানো ও পথে থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুইটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং বাকি চারটিতে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য রয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও এলএনজির সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়ে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য-প্রবাহ হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই প্রণালির পার্শ্ববর্তী দেশ ওমান থেকেও জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, কাতার থেকে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। সোমবার ‘লুসাইল’ ও বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামে আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই চার জাহাজে মোট প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে। হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এই জাহাজগুলো বাংলাদেশে এসেছে।

স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানান, চারটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত, তবে ‘লিব্রেথা’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে।

দেশে এলপিজি আমদানি হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে। ‘সেভান’ নামের একটি এলপিজি জাহাজ আজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে, যার বোঝাই হয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি। এর আগে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামে আরেকটি এলপিজিবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে, যেখানে ছিল ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি। সব মিলিয়ে দুটি জাহাজে মোট ৪১ হাজার ৪৮৮ টন এলপিজি রয়েছে।

ডিজেলের মজুদ কমতে থাকায় ‘এসপিটি থেমিস’ নামের ৩১ হাজার টন বোঝাই একটি জাহাজ ১২ মার্চ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ১৪ হাজার টন গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট নিয়ে ‘হুয়া সুন’ নামের একটি জাহাজ ও সিঙ্গাপুর থেকে ৪০ হাজার টন ফার্নেস তেল নিয়ে দুটি জাহাজ বন্দরে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর ৪ মার্চ এলপিজি ও ডিজেল নিয়ে আসা দুটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছে খালাস করেছে। জাহাজ দুটি হলো ‘ওরিয়েন্টাল গ্রিনস্টোন’ ও ‘পল’।

এই জাহাজগুলো বাংলাদেশের তেল-গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা করবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন