ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল

ইটের ওপর ইট দিয়ে গড়া নাগরিক ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সবুজ চায়ের বাগান, দুষ্প্রাপ্য বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য আর লেকের স্বচ্ছ পানি—সব মিলিয়ে শ্রীমঙ্গল যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস। এবারের লম্বা ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসার জন্য মৌলভীবাজারের এই জনপদ হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য।
সবুজ পাহাড় আর চায়ের গালিচা
শ্রীমঙ্গলে প্রবেশের সাথেই আপনাকে স্বাগত জানাবে সারি সারি চায়ের বাগান। পাহাড়ের ঢালে সাজানো সবুজ চায়ের গালিচা চোখের পলকে আপনার ক্লান্তি দূর করে দেবে। ফিনলে, ভ্যালি কিংবা চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BTRI) বাগানগুলো ভ্রমণের জন্য বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া বাগানের ভেতরে আঁকাবাঁকা পথে সাইক্লিং করা পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় শখ।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: বনের গহীনে রোমাঞ্চ
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এক অনন্য আকর্ষণ। বিরল উল্টোলেজি বানর, চশমাপরা হনুমান এবং নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে এই রেইন ফরেস্ট। বনের বুক চিরে চলে যাওয়া রেললাইনটি পর্যটকদের কাছে দারুণ এক ফটোশুট স্পট হিসেবে পরিচিত।
মাধবপুর লেক ও নীলকণ্ঠের সাত রঙের চা
পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মাধবপুর লেকের নীল জল আর সেখানে ফুটে থাকা নীল পদ্ম আপনাকে মুগ্ধ করবেই। ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করতে নীলকণ্ঠ টি কেবিনের বিখ্যাত ‘সাত রঙের চা’ পান করা শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এক গ্লাসে স্তরে স্তরে সাজানো বিভিন্ন স্বাদের এই চা পর্যটকদের কাছে এক বিস্ময়।
খাবার ও রাত্রিযাপন
শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য রয়েছে আধুনিক সব রিসোর্ট ও কটেজ। যারা প্রকৃতির একদম কাছে থাকতে চান, তারা পাহাড়ি কটেজগুলো বেছে নিতে পারেন। খাবারের জন্য স্থানীয় ‘পাঁচ ভাই’ বা ‘পানসী’ রেস্তোরাঁ বেশ জনপ্রিয়, যেখানে রকমারি ভর্তা আর হাঁসের মাংসের স্বাদ নেওয়া যায়।
ভ্রমণ টিপস
-
পরিবহন: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সরাসরি শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়।
-
আগাম বুকিং: ঈদের সময় পর্যটকদের প্রচুর ভিড় থাকে, তাই থাকার জায়গা এবং ট্রেনের টিকিট আগেভাগেই বুক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
-
পরিবেশ রক্ষা: ভ্রমণের সময় প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলে প্রকৃতির ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকুন।
দৈএনকে/জে, আ