শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ৭ সহকারী পুলিশ সুপার ও ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর কমল সোনার দাম তিন দফা বৃদ্ধির পর জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: ৮ শ্রমিক নিহত ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল
  • ছেলের মৃত্যুতে মেলেনি ছুটি: নির্বাচন ডিউটির চাপে এক পুলিশ বাবার আহাজারি

    ছেলের মৃত্যুতে মেলেনি ছুটি: নির্বাচন ডিউটির চাপে এক পুলিশ বাবার আহাজারি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কর্তব্যের কঠোর শৃঙ্খল যখন মানবিকতাকে হার মানায়, তখন জন্ম নেয় এক করুণ আখ্যান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসানের একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমবেদনার সৃষ্টি হয়েছে। মেহেদী হাসানের অভিযোগ, তার শিশু সন্তান গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও বারবার আবেদন করার পর তাকে ছুটি দেয়নি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তার বদলে অজুহাত দেওয়া হয়েছিল 'নির্বাচনকালীন ডিউটি'র ব্যস্ততাকে।

    মেহেদী হাসান বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনীর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। ঠিক সেই মূহুর্তেই মেহেদী হাসানের আদরের ছেলেটি মারা গেছে। বাবার মন যখন সন্তানের লাশের পাশে থাকতে চাইছিল, তখন রাষ্ট্রের নির্দেশে তাকে থাকতে হয়েছে কর্মস্থলে।

    মেহেদী হাসানের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তার সন্তানের মারা যাওয়ার কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ছুটির জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কর্মকর্তারা তা সরাসরি নাকচ করে দেন। তাদের দাবি ছিল, নির্বাচন সামনে, এই সময়ে কাউকে ছুটি দেওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচনের দোহাই দিয়ে তার ব্যক্তিগত ও আবেগীয় সংকটকে উপেক্ষা করা হয়।

    ছেলের মৃত্যুর পর মেহেদী হাসান সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে লেখেন- “ছুটি চাইছিলাম পাইলাম না, আমার ছেলেটা মারা গেল!!! ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ। আমি না থাকলে নির্বাচন আটকে যেতো!! কী জবাব দিবো বউকে???"

    তার এই ছোট কয়টি বাক্য সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, "যে ব্যক্তি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, তার নিজের পরিবারের জন্য রাষ্ট্র কি ন্যূনতম মানবিকতা দেখাতে পারে না?"

    এই ঘটনাটি সামনে আসার পর নেটিজেনরা পুলিশ বাহিনীর প্রশাসনিক কাঠামোর কড়া সমালোচনা করছেন। অনেকেই বলছেন, নির্বাচন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একজন বাবার কাছে তার মুমূর্ষু সন্তানের চেয়ে বড় কোনো "ডিউটি" থাকতে পারে না। মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের মতো তৃণমূল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতনদের আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা।

    নির্বাচন সফল হবে ঠিকই, কিন্তু মেহেদী হাসান হারিয়েছেন তার কলিজার টুকরোকে। এই শোক সম্ভবত কোনো পদক বা রাষ্ট্রীয় ধন্যবাদ দিয়ে পূরণ হওয়ার নয়। এই ঘটনাটি আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন