নীলফামারীতে আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মী গ্রেফতার

নীলফামারীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাতজন নেতাকর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মিয়া (২৭), কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মন্নাফ (৩১), সৈয়দপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ সমর্থক জাহানুর আলম (৩৬), একই উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য এনামুল হক (৬০), জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন লিটন (৪২), ডোমার উপজেলার পাঙ্গামটুকপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অমিত হাসান সাকু (৩৯) এবং ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর আনারুল ইসলাম (৫৫)।
নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে নাশকতাসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার ভিত্তিতে জেলা পুলিশের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই দিনে জেলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর ও ডিমলা উপজেলায় পৃথক অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আজগর আলী (৬৫), সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি মো. গোলজার হোসেন (৪৬), ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এন্তাজুল হক (৬০) এবং একই উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলাউদ্দিন ওরফে উদ্দিন (৪৫)।
জেলা পুলিশ আরও জানায়, নাশকতা ও অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।#