মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

ভূরুঙ্গামারীতে ৩৩ বছরের ছমির এখনো শিশু

ভূরুঙ্গামারীতে ৩৩ বছরের ছমির এখনো শিশু
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

দেখতে শিশুর মতো, চালচলনও সেরকম। অজানা রোগে আক্রান্ত দরিদ্র বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া আছর উদ্দিন ছমির ৩৩ বছরের যুবক হয়েও সুচিকিৎসার অভাবে আটকে আছেন শিশু হয়ে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামের আজিম উদ্দিন ও আছিয়া বেগম দম্পতির এক মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে মেজো ছমির।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , নানা বয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মগ্ন আছর উদ্দিন ছমির। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই তার জন্ম ১৯৯২ সালের ২৪ মে। দেখতে প্রায় শিশুর মতো ছমির। কখনো বাবা অথবা গ্রামবাসীর হাত ধরে বাজারে বা অন্য কোথাও যাচ্ছেন। কখনো খেলছেন আপন মনে। ছমির ছোট শিশুর মতো জীবন যাপন করলেও তার ছোটো ভাই-বোন বিয়ে করে দিব্যি সংসার করছেন। 

ছমিরের মা আছিয়া বেগম সাংবাদিকদের  বলেন, জন্মের পর থেকেই ছমির অস্বাভাবিক। বয়স হলেও শিশুর মতো লালন পালন করতে হচ্ছে তাকে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। ফলে শরীরে নানাবিধ সমস্যা নিয়ে শিশুই থেকে গেছে ছমির। ঘটেনি তার মানসিক বিকাশ।

তার বাবা আজিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বয়স হলেও ছমিরকে ছোট শিশুর মতোই লালন-পালন করতে হচ্ছে। তার শরীরে নানা সমস্যা, তার জন্য কষ্ট হয়। তবু তাকে টেনে নিয়ে চলছি। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। শুধু প্রতিবন্ধী ভাতা পাই সেই ভাতা দিয়ে কী হয়। কেউ খোঁজখবর নেয় না। কোনো সহযোগিতা পাই না। প্রতিবেশী শাহিন মিয়া (৬০) বলেন, গ্রামের অন্যান্য শিশুরাও ছমিরকে শিশু মনে করে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলাধুলা করে তার সাথে। চিকিৎসাসহ অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকারসহ সমাজের বিত্তবানদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। 

আরেক প্রতিবেশী ফয়জার হোসেন (৫০) বলেন, ছমিরের শারীরিক সমস্যার কারণে ঠিক মতো খেলতে পারে না। দৌঁড়াতে পারে না। তার চিকিৎসার দরকার। তার খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব কিছু তার বাবা-মাকে করতে হয়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে আছর উদ্দিন মেঝো। তার সমস্যার কারণে বাবা-মার কষ্ট অনেক। তার বাবাও অসুস্থ। এখন তার মা দেখাশোনা করে। তাদের আয় রোজগার নেই। তাদের অভাবের সংসারে ছমির বড় সমস্যা। তাই তাদের অর্থনৈতিক সহায়তার প্রয়োজন। এ অবস্থায় তার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার বা বিত্তবানরা তাদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে এলে পরিবারটির জন্য ভালো হতো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র সাংবাদিকদের বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের  বলেন, বিভিন্ন কারণে মানুষ খর্বাকৃতির হয়ে থাকে। সঠিক কারণ বের করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা করলে ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। তাকে বাইরে ডাক্তার দেখাতে হবে। আমাদের এখানে এলে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন