নিজেই জুস খেয়ে অচেতন অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে ঘটলো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অজ্ঞান পার্টির কুখ্যাত সদস্য ফুল মিয়া (৪৮) যাত্রীদের অজ্ঞান করে স্বর্ণালঙ্কার লুটের চেষ্টা চালালেও শেষ রক্ষা হলো না। যাত্রীদের বুদ্ধিমত্তায় হাতেনাতে ধরা পড়ার পর নিজেই নিজের ফাঁদে পড়ে অচেতন হয়ে যান তিনি।
আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) ভোরে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা নীলফামারীর চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের ’ঝ’ বগিতে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাহমুদ-উন নবী।
অজ্ঞান পার্টি চক্রের মূলহোতা ফুল মিয়া রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আব্দুল্লাপুরের আব্দুস ছামাদের ছেলে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার করনাই এলাকার দক্ষিণ মালঞ্চ গ্রামের ইশনী রায়ের স্ত্রী কৌশিলা রায় (৫০) ও মেয়ে বীথি রানী (২৮)।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের ’ঝ’ বগির ৭৮, ৭৯ নম্বর সিটের যাত্রী ছিলেন কৌশিলা ও বীথি। তাঁরা দিনাজপুরের বিরামপুর স্টেশন থেকে সৈয়দপুরে আসছিলেন। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তিনি মা-মেয়েকে জুস খেতে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অচেতন হয়ে পড়েন। এ সুযোগে ফুল মিয়া তাদের কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেন।
এ সময় পাশের যাত্রী আব্দুর রহিম (অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা) বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ফুল মিয়াকে আটক করে ওই বগির যাত্রীদের বিষয়টি অবগত করেন। আটক ওই প্রতারক বিষয়টি অস্বীকার করলে যাত্রীরা তাঁর কাছে থাকা অবশিষ্ট জুস তাঁকে পান করতে বাধ্য করেন। এতে ফুল মিয়া নিজেই অজ্ঞান হয়ে পড়লে সবার কাছে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। যাত্রীরা তাৎক্ষণিক ট্রেনে দায়িত্বরত আরএনবি পুলিশকে অবগত করে তাদের হাতে তুলে দেয়।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ-উন নবী জানান, দুই ভুক্তভোগীসহ অজ্ঞান পার্টির মূল হোতাকে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুপুরে কৌশিলা রায়ের ছেলে রবীন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তিনি বলেন, অজ্ঞান পার্টির মূল হোতা ফুল মিয়ার নামে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।