শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল জিতলেন অ্যানি কারসন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১১৪৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত এনসিটি পরিচালনায় ১৫ বছরের দায়িত্ব পেল ডিপি ওয়ার্ল্ড জলবায়ু অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে ইউএনডিপির সহযোগিতা চাইলেন মিন্টু যুব এশিয়া কাপে ৫ নভেম্বর আফগানিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ মানি চেঞ্জারে একবারে ৩ হাজার ডলার নিতে পারবেন বিদেশগামীরা বিয়ের দিনের চেয়েও সুন্দর, মেহজাবীনের নতুন সাজে মুগ্ধ ভক্তরা কেরানীগঞ্জে সড়কের পাশে রক্তমাখা নবজাতকের দায়িত্ব নিলো ইউএনও
  • কিয়ামতের আগে ঈসা (আ.)-কে যেভাবে চেনা যাবে

    কিয়ামতের আগে ঈসা (আ.)-কে যেভাবে চেনা যাবে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    হজরত ঈসা (আ.) আল্লাহর প্রেরিত একজন মহান নবী। তিনি বনি ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত নবীদের ধারার শেষ নবী। আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশেষ নিদর্শন হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। তার জন্মও ছিল অলৌকিক। পিতা ছাড়াই হজরত মরিয়ম (আ.)-এর গর্ভে তার জন্ম হয় এবং শৈশবেই তিনি আল্লাহর নির্দেশে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

    কোরআনে ঈসা (আ.)-এর বর্ণনা

    হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম ও নবুয়ত সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। জন্মের পর তার চরিত্র ও তার মা মরিয়ম (আ.)-এর পবিত্রতা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠলে আল্লাহর নির্দেশে তিনি শিশুকালেই কথা বলেন।

    কোরআনে এসেছে, ঈসা (আ.) বলেন, ‘নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। যেখানেই আমি থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি ততদিন নামাজ ও জাকাত আদায় করতে।’

    আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘এটাই মারইয়াম পুত্র ঈসা। এটাই সত্য বক্তব্য, যে বিষয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করছে।’ (সূরা মারইয়াম, আয়াত ৩০-৩৪)

    কিয়ামতের আগে পৃথিবীতে আগমন

    আল্লাহ তায়ালা হজরত ঈসা (আ.)-কে বিশেষ কিছু মুজিজা দিয়েছিলেন। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ তাকে আসমানে তুলে নিয়েছেন এবং কিয়ামতের আগে তিনি আবার পৃথিবীতে অবতরণ করবেন।

    হাদিসে তার পুনরাগমনকে কিয়ামতের বড় আলামতগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হজরত হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগে দশটি নিদর্শন প্রকাশ পাবে। এর মধ্যে রয়েছে ধোঁয়া, দাজ্জালের আবির্ভাব, দাব্বাতুল আরদ, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, ঈসা ইবনে মারইয়ামের আগমন, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব এবং পূর্ব, পশ্চিম ও আরব উপদ্বীপে ভূমিধস। এছাড়া ইয়ামান থেকে আগুন বের হয়ে মানুষকে সিরিয়ার দিকে নিয়ে যাবে। (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান)

    চেহারা দেখে চেনার বর্ণনা

    হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত ঈসা (আ.)-এর অবতরণের বিষয়ে তার কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।

    হাদিসে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও ঈসা (আ.)-এর মাঝে কোনো নবী নেই। তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। তাকে দেখে চেনার একটি বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি মাঝারি উচ্চতার হবেন এবং তার গায়ের রং লালচে-সাদার মাঝামাঝি হবে। তার চুল এমন হবে যে, ভেজা না থাকলেও মনে হবে সেখান থেকে পানির ফোঁটা ঝরছে।

    ঈসা (আ.)-এর দায়িত্ব

    হাদিসে হজরত ঈসা (আ.)-এর অবতরণের পর তার কিছু কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেবেন, ক্রুশ ভেঙে দেবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিজিয়া রহিত করবেন। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন বলেও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

    সুনানে আবু দাউদের একটি হাদিসে এসেছে, তিনি পৃথিবীতে চল্লিশ বছর অবস্থান করবেন। এরপর তার মৃত্যু হবে এবং মুসলিমরা তার জানাজা পড়বেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৩২৪)

    ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, হজরত ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমন কিয়ামতের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি। তার আগমন সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিষয়গুলো মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ