বিরোধীদের লংমার্চের কারণে জ্বালানি সংকট আরও বাড়ছে: রাশেদ খাঁন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জামায়াত-এনসিপি বিরোধী জোটের ‘লংমার্চ’ কর্মসূচির কারণে দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ও জনভোগান্তি আরও তীব্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শনিবার সকালে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, মহাসড়ক অবরুদ্ধ করা এবং এ কর্মসূচিতে আনুমানিক এক লাখ লিটার জ্বালানি অপচয়ের ফলে দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম দেশের প্রধান অর্থনৈতিক ধমনি হওয়ায় এ সড়কে হাজার হাজার পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে, যা রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক লোকসান ঘটাচ্ছে।
বিদ্যমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, বর্তমান সংকটটি অতীতের অব্যবস্থাপনার ফল। তিনি লেখেন, ‘ছয় মাসের সরকারের ওপর গত ১৮ থেকে ২০ বছরের সমস্যা, সংকট ও অব্যবস্থাপনার দায় চাপানোর চেষ্টা মূর্খতার শামিল।’
রাশেদ খাঁনের মতে, সাধারণ জনগণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত।
অন্যদিকে, বিরোধী ৯ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই লংমার্চ মূলত একাধিক নাগরিক ও রাজনৈতিক দাবি আদায়ের অংশ। জোটের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন
জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা
বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও দলীয়করণ বন্ধ করা
উল্লেখ্য, শুরুতে এই জোটে ১১টি দল থাকলেও সম্প্রতি দুটি দল জোট ত্যাগ করায় বর্তমানে এটি ৯ দলীয় জোটে রূপান্তরিত হয়েছে।
গত আগস্টে ঢাকার মুক্তাঙ্গনে আয়োজিত একটি কর্মসূচি থেকে দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন জোটটির শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী:
১৯ সেপ্টেম্বর: ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ
১০ অক্টোবর: ঢাকা থেকে খুলনা অভিমুখে লংমার্চ
২৪ অক্টোবর: ঢাকা থেকে সিলেটে (রেলপথে) লংমার্চ
১৪ নভেম্বর: রাজপথে মহাসমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি