নেপালে বন্যার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামো

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ট্রান্সমিশন লাইন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির শক্তি, পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ত্রিশূলী ও ভোটেকোশী নদী অববাহিকায় চালু ও নির্মাণাধীন বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
বন্যার পানিতে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের বাঁধ, হেডওয়ার্কস, পাওয়ার হাউস, সংযোগ সড়ক, ট্রান্সমিশন কাঠামো ও নির্মাণসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রসুয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক প্রকল্প
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রসুয়া জেলায় ২৩৬ মেগাওয়াট সম্মিলিত ক্ষমতার পাঁচটি চালু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ৩৪২ দশমিক ৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার তিনটি নির্মাণাধীন প্রকল্প বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ২১৬ মেগাওয়াটের আপার ত্রিশূলী-১, ১২০ মেগাওয়াটের রসুয়া ভোটেকোশী, ১১১ মেগাওয়াটের রসুয়াগড়ী, ৭৮ মেগাওয়াটের সঞ্জেন খোলা, ৬ দশমিক ৪২ মেগাওয়াটের আপার মাইলুং এ, ৫ মেগাওয়াটের মাইলুং খোলা, ২০ মেগাওয়াটের লাংটাং খোলা এবং ২২ মেগাওয়াটের চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
অন্যদিকে নুয়াকোট জেলায় ১২৩ মেগাওয়াট সম্মিলিত ক্ষমতার চারটি চালু প্রকল্প এবং ৫২ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের দুটি নির্মাণাধীন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এসবের মধ্যে রয়েছে ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ১৪ দশমিক ১ মেগাওয়াটের দেবীঘাট, ৬০ মেগাওয়াটের আপার ত্রিশূলী-৩এ, ৩৭ মেগাওয়াটের আপার ত্রিশূলী-৩বি, ১৫ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের মিডল ত্রিশূলী গঙ্গা এবং ২৫ মেগাওয়াটের সোতার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনও হয়নি
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রকল্প পরিচালকেরা ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি কারিগরি মূল্যায়ন শুরু করেছেন।
শক্তি, পানিসম্পদ ও সেচমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ রসুয়া ও আশপাশের এলাকায় ভোটেকোশী নদীর আকস্মিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্যায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কর্মচারী, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বন্যায় রসুয়া জেলার ট্রান্সমিশন লাইন ও ত্রিশূলী-৩বি হাব সাবস্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে সরাসরি অবকাঠামোগত ক্ষতি না হলেও কিছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প জাতীয় ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কাঠমান্ডু উপত্যকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী এলাকার এসব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রকল্প ও ট্রান্সমিশন অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে রাজধানী উপত্যকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক, নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প ও জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
মেরামতে নেমেছে কর্তৃপক্ষ
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) ভোটেকোশী নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপনে কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌরশক্তিনির্ভর অস্থায়ী ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শক্তি, পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয়।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ প্রকল্প ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।