মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

নারী সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

নারী সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান সরকারের: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। বিশেষ করে সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারীদের বিরুদ্ধে যে ধরনের হয়রানি হচ্ছে, তা প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

শনিবার (৭ মার্চ) প্রকাশিত ওই বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সব নারীকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য— “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”— বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং আধুনিক শিক্ষা অবকাঠামো সম্প্রসারণেও সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে পরিবার ও সমাজ— উভয় ক্ষেত্রেই উন্নয়নের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি জানান, শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের অধীনে নারী বিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। পরে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯৪ সালে এটি ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন, যা দেশে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকার নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন