সাভার-আশুলিয়ায় ফুটপাত ও ফুট ওভারব্রিজ হকারদের দখলে

সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকার ফুটপাত ও ফুট ওভারব্রিজগুলো এখন হকারদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। মহাসড়কের একাংশ দখল করার পর এবার হকারদের কবজায় চলে গেছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনের ফুটপাত ও গুরুত্বপূর্ণ ফুট ওভারব্রিজগুলো। একটি প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় এই অরাজকতা চলায় প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যার চরম মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রী, মুমূর্ষু রোগী ও হাজার হাজার পোশাক শ্রমিককে।
আজ রবিবার সকালে সরেজমিনে পল্লী বিদ্যুৎ ও স্মৃতিসৌধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। স্মৃতিসৌধের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার সামনের পুরো ফুটপাত এখন হকারদের দখলে। ফুটপাতে হাঁটার জায়গা না থাকায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। শুধু ফুটপাতই নয়, স্মৃতিসৌধ এলাকার ফুট ওভারব্রিজের ওপর এবং সিঁড়িতে দোকান সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। এতে করে ব্রিজের ওপর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াতের কোনো উপায় নেই।
একই চিত্র দেখা গেছে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায়। সেখানে ফুট ওভারব্রিজের নিচের নির্ধারিত জায়গা ছাপিয়ে অস্থায়ী দোকানপাট এখন মূল সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করে দোকান বসানোর ফলে যানবাহন চলাচলের পথ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সকালে ও বিকেলে যখন হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মী শিফট পরিবর্তনের সময় সড়কে নামেন, তখন এই কৃত্রিম জটলায় পুরো এলাকা স্থবির হয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট চক্র নিয়মিতভাবে প্রতিটি দোকান ও হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ও সাপ্তাহিক হারে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "এখানে বসার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে দোকান বসাতে বাধা দেওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।" মূলত এই অবৈধ লেনদেনের কারণেই মহাসড়ক, ফুটপাত ও ব্রিজের ওপর দোকানের সংখ্যা দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া ও হাইওয়ে থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, মহাসড়ক, ফুটপাত ও ফুট ওভারব্রিজ দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এসব এলাকা দখলমুক্ত করার পাশাপাশি চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।