কর্মকর্তা ম্যানেজে মিলছে নিয়ম বহির্ভূত বিদ্যুৎ সংযোগ

নিয়ম না মেনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বড় কর্তা ‘ম্যানেজ’ করতে পারলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ মিলছে।
এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীর শ্যামতলী মাটিয়ালকান্দা গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে একটি স্থাপনায় নির্মাণ কাজ চলমান থাকা অবস্থাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ একই এলাকায় অনেক গ্রাহক নিয়ম অনুযায়ী ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করে মেশিন স্থাপন করেও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এ ঘটনায় সচেতন মহল নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মনোয়ার হোসেন ও মাধবদী জোনাল অফিসের এজিএম (কম.) রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যমান নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়মের ব্যতিক্রম যা কিছু পাওয়া যাবে, তা বিস্তারিতভাবে রিপোর্ট আকারে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা রয়েছে, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর প্রধান কার্যালয়ের পাওয়ার ইউনিট কন্ট্রোলার (PUC) মো. মাঈনুল গ্রাহকের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে উক্ত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে আমদিয়া ইউনিয়নের চানগাঁও গ্রামে একটি অটো গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন PUC মো. মাঈনুল। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো গ্রাহকের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন হয়নি। তিনি বলেন, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অফিসে তিনি মাত্র চার থেকে পাঁচ মাস ধরে কর্মরত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি। কে বা কারা এসব অভিযোগ করছে, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।