ভালুকায় কলেজ ছাত্রকে ফাঁসাতে ধর্ষণের মিথ্যা মামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ভালুকায় এক কলেজ ছাত্রকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এম। এমন অভিযোগ উঠেছে এক নারী গার্মেন্টস কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি জামিরদিয়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সম্রাট। তিনি বর্তমানে ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যয়নরত। অপরদিকে মামলার বাদী বৈশাখী, যিনি বাদশা টেক্সটাইল কোম্পানিতে কর্মরত বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তের পরিবার জানায়, প্রায় তিন বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্রাট ও বৈশাখীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বৈশাখী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে উভয়ের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে বৈশাখী সম্রাটের বাড়িতে গিয়ে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানালে, বয়স ও পড়াশোনার অজুহাতে সম্রাটের পরিবার বিয়েতে অসম্মতি জানায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বৈশাখী গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সম্রাটের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন এমনটাই দাবি অভিযুক্ত পক্ষের।
এ বিষয়ে সম্রাটের বক্তব্য, “আমাদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক থাকলেও আমি কখনো বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেইনি। আমি এখনও পড়াশোনার পর্যায়ে আছি এবং প্রাপ্তবয়স্ক নই। আমাকে ফাঁদে ফেলে বিয়েতে বাধ্য করতেই এ মামলা করা হয়েছে।”
সম্রাটের পরিবার অভিযোগ করে বলছে, প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এমন গুরুতর অভিযোগ এনে একটি তরুণ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা জানান।
অন্যদিকে মামলার বাদী বৈশাখী বলেন, “সম্রাট আমাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। এখন সে অস্বীকার করছে। আমি তাকে বিয়েতে বাধ্য করতেই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিযুক্তের পরিবার মনে করছেন, প্রেম বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনাটি যথাযথ তদন্ত করে দোষীকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।