বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুর রহমান এক নীরব আলোকবর্তিকা

নরসিংদীর মাধবদীর রাজনীতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুর রহমান এক নীরব আলোকবর্তিকা। যিনি প্রচারের আলো এড়িয়ে থেকেও রেখে গেছেন স্থায়ী ছাপ। তার জীবনে কেবল দায়িত্বের তালিকা নয় এটি সংগ্রাম, ত্যাগ এবং মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রমের ইতিহাস। দেশের স্বাধীনতার ডাক যখন চারদিকে, তরুণ ওবায়দুর রহমান তখন ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তির লড়াইয়ে।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর প্রতীক ন্যাভাল সিরাজের নেতৃত্বে তিনি সরাসরি অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। গোলাগুলির ধোঁয়া আর অনিশ্চয়তার ভয় কোনো কিছুই তাকে পিছিয়ে দিতে পারেনি। বিজয়ের পতাকা বুকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি, কিন্তু তার যুদ্ধ থেমে যায়নি—এবার যুদ্ধ রাজপথে, মানুষের অধিকার আদায়ে।
স্বাধীনতার পর শুরু হয় তার রাজনৈতিক পথচলা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভার সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও কেবিনেট সচিব মরহুম আব্দুল মোমেন খানের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৮১ সালে জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য হিসেবে প্রথম আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পান। ১৯৮৬ সালে জেলা যুবদলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন এবং চার দফায় সেই পদে দায়িত্ব পালন করে প্রমাণ করেন—নেতৃত্ব মানে শুধু পদ নয়, কাজ দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন।
টানা ১৯ বছর নরসিংদী সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পাশাপাশি ছিলেন জেলা তাতী দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় তাতী দলের সহপ্রচার সম্পাদক, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নরসিংদী থানা বিএনপির নির্বাহী সদস্য। তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল মাধবদীতে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন—যা তখনকার দিনে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কষ্ট কমিয়ে দিয়েছিল এবং আজও স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় অবদান হিসেবে রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক জীবনে সংগ্রাম ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এরশাদ শাসনামলে রমনা থানায় গ্রেফতার হন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েও তিনি কখনো পিছু হটেননি। প্রচারবিমুখ হলেও সংগঠনে নিষ্ঠা, ত্যাগ ও নেতৃত্বের গুণে ওবায়দুর রহমান মাধবদীর রাজনীতিতে এক স্থায়ী স্থান দখল করেছেন। আজ তিনি শুধু একজন নেতা নন—তিনি ত্যাগ, নিষ্ঠা ও নীরব কর্মপ্রাণতার প্রতীক। আলোয় না থেকেও তিনি আলোকিত করেছেন চারপাশ—যেন এক বাতিঘর, যা নিভে যাওয়ার পরও প্রজন্মকে দিক দেখিয়ে যাবে।